দাদুর সেই গল্পই হলো সত্যি! ৮০ বছর পর মাটি খুঁড়ে নাতি যা বের করল, দেখে থমকে গেল গোটা বিশ্ব

উপন্যাস বা সিনেমায় আমরা অনেকবার গুপ্তধন খোঁজার রোমাঞ্চকর গল্প পড়েছি। কিন্তু কল্পনাকেও হার মানালো পোল্যান্ডের ৬৯ বছর বয়সী বৃদ্ধ জ্যান গ্লাজেভস্কির জীবন। দীর্ঘ ৮০ বছর ধরে তাঁর পরিবার যে গল্পটিকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে ছিল, শেষ পর্যন্ত তা বাস্তব প্রমাণিত হলো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মাটির নিচে পুঁতে রাখা অমূল্য সম্পদ উদ্ধার করে জ্যান এখন সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

ঘটনার সূত্রপাত ১৯৩৯ সালে। জ্যানের দাদা অ্যাডাম গ্লাজেভস্কি ছিলেন এক বিশাল প্রাসাদের মালিক। কিন্তু সোভিয়েত সেনাবাহিনীর আক্রমণের মুখে প্রাণ বাঁচাতে তাঁদের প্রাসাদ ছেড়ে পালাতে হয়। যাওয়ার আগে অ্যাডাম তাঁর সমস্ত সোনার মুদ্রা, রুপোর তৈজসপত্র এবং দামী গয়না প্রাসাদেরই এক গোপন জায়গায় মাটি চাপা দিয়ে যান। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর প্রাসাদটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলেও সেই সম্পদের কথা কেউ জানত না। তবে জ্যানের বাবা গুস্তাভ মৃত্যুর আগে একটি হাতে আঁকা মানচিত্র দিয়ে গিয়েছিলেন ছেলেকে।

সেই মানচিত্রকে সম্বল করেই ২০২৫ সালে ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে সেই ধ্বংসস্তূপে পৌঁছান জ্যান। প্রাথমিক খননকাজ হতাশাজনক হলেও হাল ছাড়েননি তিনি। বেশ কিছুটা গভীরে যেতেই বেরিয়ে আসে ১৯ এবং ২০ শতাব্দীর অসংখ্য সোনার মোহর এবং রাজকীয় রুপোর পাত্র। জ্যান আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “এটি কেবল ধন নয়, এটি আমার পূর্বপুরুষদের সংগ্রাম আর অস্তিত্বের লড়াইয়ের স্মৃতি।” বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে এই গুপ্তধনের মূল্য কয়েক কোটি টাকা।