তদন্তে ৯০ মিনিটের ম্যারাথন জেরা! অজিত পওয়ারের মৃত্যুতে এবার ফেঁসে যাচ্ছে চার্টার্ড সংস্থা?

মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত এবার এক নতুন মোড় নিল। একদিকে পুনে গ্রামীণ পুলিশ বারামতী তালুকা থানায় একটি ‘অ্যাক্সিডেন্টাল ডেথ রিপোর্ট’ (ADR) দায়ের করেছে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রকের অধীনস্থ সংস্থা এএআইবি (AAIB) আক্রমণাত্মক মেজাজে তদন্ত শুরু করেছে। মামলার গুরুত্ব বিচার করে এই এডিআর তদন্তের ভার এখন মহারাষ্ট্রের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডি (CID)-র হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।

মালিকপক্ষের ওপর সাঁড়াশি চাপ: দুর্ঘটনাগ্রস্ত লিয়ারজেট ৪৫ বিমানটি ছিল দিল্লিভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা ‘ভিএসআর ভেঞ্চারস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর। সূত্রের খবর, এএআইবি-র তিন কর্মকর্তার একটি দল সংস্থার অফিসে হানা দিয়ে মালিক এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের প্রায় ৯০ মিনিট ধরে ম্যারাথন জেরা করেছেন। রক্ষণাবেক্ষণ বা যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না, তা নিয়ে কর্মকর্তাদের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে।

পাইলটদের অভিজ্ঞতা ও রহস্যময় নীরবতা: বিস্ময়কর তথ্য হলো, বিমানে থাকা প্রধান পাইলট সুমিত কাপুরের ১৫,০০০ ঘণ্টারও বেশি উড়ানের অভিজ্ঞতা ছিল এবং কো-পাইলট শম্ভবী পাঠকেরও ছিল ১,৫০০ ঘণ্টার অভিজ্ঞতা। তা সত্ত্বেও ল্যান্ডিং ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর কেন পাইলটরা এটিসি-কে কোনো ‘রিড-ব্যাক’ (Read-back) দিলেন না, তা নিয়ে রহস্য দানা বাঁধছে। বারামতীর টেবিল-টপ রানওয়ের মাত্র ২০০ মিটার দূরে আছড়ে পড়া এবং তাতে আগুন ধরে যাওয়ার কারণ খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

বোম্বার্ডিয়ার-এর প্রতিক্রিয়া: এদিকে লিয়ারজেট প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘বোম্বার্ডিয়ার’ (Bombardier) এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা তদন্তকারী সংস্থাকে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দেবে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে নারাজ। অজিত পওয়ারের পাশাপাশি এই ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারিয়েছেন পাইলট সুমিত কাপুর, কো-পাইলট শম্ভবী পাঠক, পিএসও বিদীপ যাদব এবং ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট পিংকি মালি।