ট্রাম্পের রণতরী যখন ইরানের পথে, তখন মুম্বাইয়ে গোপন বৈঠক! ভারত কি পারবে যুদ্ধ থামাতে?

বিশ্বজুড়ে ঘনীভূত যুদ্ধের মেঘের মাঝেই ভারতের বাণিজ্যনগরী মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হলো এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক বৈঠক। একদিকে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সামরিক হামলার হুমকি দিচ্ছেন, ঠিক তখনই ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি ভারতের উপ-জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পবন কাপুরের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন। মুম্বাইয়ে ইরানের কনস্যুলেট জেনারেল এই বৈঠকের খবর নিশ্চিত করেছেন।
ট্রাম্পের ভয়ঙ্কর হুঁশিয়ারি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে এক বিস্ফোরক পোস্টে জানিয়েছেন যে, একটি বিশাল মার্কিন নৌবহর দ্রুত ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তিনি তেহরানকে সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন বাহিনী প্রয়োজনে চরম সহিংসতা ব্যবহার করে মিশন সম্পন্ন করতে প্রস্তুত। ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা, “ইরান হয় দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসুক এবং পরমাণু অস্ত্রবিহীন একটি চুক্তি করুক, নয়তো ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর মতো আরও বড় বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে তৈরি থাকুক।”
ভারতের ভূমিকা ও বৈঠকের গুরুত্ব: পারমাণবিক আলোচনা নিয়ে যখন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, তখন লারিজানির ভারত সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল। পশ্চিম এশিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভারতের মধ্যস্থতা বা কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ আছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। লারিজানি এবং পবন কাপুরের আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা এবং বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের বিষয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরান অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা কোনোভাবেই মার্কিন চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না এবং যেকোনো সম্ভাব্য আক্রমণের জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এখন দেখার বিষয়, ভারতের এই কূটনৈতিক তৎপরতা যুদ্ধের দাবানল থামাতে কতটা কার্যকর হয়।