“বাংলার দাপট এখনও দেখেনি মানুষ”, সিঙ্গুরে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রকে খোলা চ্যালেঞ্জ রচনার, বেঁধে দিলেন ভোটের লক্ষ্য!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা কি বেজে গেল সিঙ্গুর থেকেই? বুধবার আন্দোলনের মাটি সিঙ্গুর থেকে একযোগে ১৬৯৪টি প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখে শিল্প নিয়ে বিশেষ আশ্বাস শোনা যায়নি, সেখানেই বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোড়া শিল্প পার্কের ঘোষণা করে মাস্টারস্ট্রোক দিলেন।
কৃষি ও শিল্পের সহাবস্থান: এদিন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কৃষিজমি দখল না করেই হবে শিল্প। তিনি ঘোষণা করেন:
সিঙ্গুর অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক: ৮ একর জমির ওপর ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই পার্ক তৈরি হয়েছে। ২৮টি প্লটের মধ্যে ইতিমধ্য়েই ২৫টি বরাদ্দ হয়ে গিয়েছে।
প্রাইভেট ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক: ৭৭ একর জমিতে আরও একটি বেসরকারি শিল্প পার্ক গড়ার বড় ঘোষণা করেন তিনি।
রচনার নিশানায় ২০২৬: এদিন সভায় উপস্থিত ছিলেন হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব)। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় একেবারে আক্রমণাত্মক মেজাজে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে নিশানা করেন। তিনি বলেন, “এখন থেকে লড়াই শুরু। বাংলার দাপট মানুষ এখনও দেখেনি।” শুধু তাই নয়, পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি ২০২৬-এর লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেন। ২০১১-তে ১৮৫, ২০২১-এ ২১৫-র পর এবার ২০২৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেস রেকর্ড আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরবে বলে দাবি করেন তিনি।
সিঙ্গুরের এই সভা থেকে একদিকে যেমন উন্নয়নের বার্তা দেওয়া হয়েছে, তেমনই ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের লড়াইয়ের সুর বেঁধে দিলেন তৃণমূলের তারকা প্রচারকরা।