সেলিমের সঙ্গে টানা মিটিং, জোটের ‘ডেডলাইন’ দিলেন হুমায়ুন, CPIM-এ কী চলছে?

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতে এখনও কিছুটা দেরি থাকলেও, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়ে গিয়েছে চূড়ান্ত তৎপরতা। একদিকে যখন ঘাসফুল শিবির নিজেদের জমি শক্ত করতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই বাম শিবিরে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। রাজারহাট নিউটাউনের একটি অভিজাত হোটেলে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরের মেগা বৈঠক ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
কী কথা হলো সেলিম-হুমায়ুনের মধ্যে?
পিটিআই সূত্রে খবর, এদিনের বৈঠকে বিধানসভা ভোটে জোট এবং আসন সমঝোতা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চলে দুই নেতার মধ্যে। বৈঠক শেষে হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আমি সেলিম সাহেবকে বলেছি ১৫ তারিখের মধ্যে জোট প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে। এমনকি আইএসএফ-কেও এই জোটে রাখার প্রস্তাব দিয়েছি।” তবে মহম্মদ সেলিম যথেষ্ট সাবধানী। তিনি সাফ জানান, হুমায়ুনের রাজনৈতিক অভিপ্রায় জানতেই এই আলোচনা। দলের অন্দরে কথা না বলে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।
পুরানো কাঁটা কি বিঁধবে বামেদের?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জোট বামেদের জন্য ‘শাঁখের করাত’ হতে পারে। ২০২১ নির্বাচনে নওশাদ সিদ্দিকির আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট নিয়ে দলের অন্দরেই প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছিল আলিমুদ্দিন। সেবার ‘সেকুলার’ তকমা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিলেও, হুমায়ুন কবীরের ক্ষেত্রে তা কঠিন হতে পারে। কারণ:
-
হুমায়ুন কবীর নিজেকে মুসলিমদের রক্ষাকর্তা হিসেবে তুলে ধরছেন।
-
বাবরি মসজিদ নির্মাণের মতো ইস্যু তাঁর রাজনীতির কেন্দ্রে।
-
কট্টর বামপন্থী কর্মী-সমর্থকরা এই ‘ধর্মীয় মেরুকরণ’-এর রাজনীতি মেনে নেবেন কি না, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন থাকছে।
তৃণমূলের তীব্র কটাক্ষ
এই বৈঠককে কেন্দ্র করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের আক্রমণ শানাতে দেরি করেনি। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “সিপিআইএম রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে। তাই ভোটের আগে ভিক্ষের পাত্র হাতে জোট ভিক্ষা করতে বেরিয়েছেন সেলিমরা।”
এক নজরে বর্তমান পরিস্থিতি:
| গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট | বিবরণ |
| বৈঠকের স্থান | রাজারহাট নিউটাউনের একটি হোটেল |
| প্রধান চরিত্র | মহম্মদ সেলিম ও হুমায়ুন কবীর |
| মূল দাবি | ১৫ তারিখের মধ্যে জোট নিশ্চিত করা |
| চ্যালেঞ্জ | দলের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ ও ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তি রক্ষা |