শেষ ৪ মিনিটে কী ঘটেছিল অজিত পাওয়ারের বিমানে? জেনেনিন শিউরে ওঠার মতো ঘটনা

বুধবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটে মুম্বই বিমানবন্দর থেকে যখন ভিএসআর ভেঞ্চার্সের ১৬ বছরের পুরনো লিয়ারজেট ৪৫ বিমানটি ডানা মেলেছিল, তখন কেউ কল্পনাও করেনি ঠিক ৩৫ মিনিট পর কী ভয়াবহ ট্র্যাজেডি অপেক্ষা করে আছে। মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার-সহ ৫ জনের প্রাণ কেড়ে নেওয়া বারামতি বিমান দুর্ঘটনার প্রতি মুহূর্তের বিবরণ এখন রীতিমতো হাড়হিম করা।
৪ মিনিটের সেই মরণখেলা: ফ্লাইটরাইডারের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে বারামতি বিমানবন্দরে প্রথমবার অবতরণের চেষ্টা করেন পাইলট। কিন্তু কুয়াশা বা দৃশ্যমানতা কম থাকায় সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর ৮টা ৪২ মিনিটে দ্বিতীয়বার ল্যান্ডিংয়ের প্রস্তুতি নেয় বিমানটি। ঠিক ৮টা ৪৫ মিনিটে হঠাৎ রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় সেটি। রানওয়ে ১১-এর কাছে বিকট শব্দে আছড়ে পড়ে অজিত পাওয়ারের চার্টার ফ্লাইট।
চোখের সামনেই বিস্ফোরণ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান: ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শী এএনআই-কে জানান, “বিমানটি রানওয়ের দিকেই আসছিল, কিন্তু অবতরণের ঠিক ১০০ ফুট আগে হঠাৎ আছড়ে পড়ে। মাটিতে লাগার সঙ্গে সঙ্গেই পরপর ৫টি প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে।” আরেক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, “আমি ভেবেছিলাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কোনও বিমান। পরে জানতে পারি এর ভেতরেই ছিলেন আমাদের অজিত দাদা। আগুন এত ভয়াবহ ছিল যে কারও বেঁচে থাকার আশা ছিল না।”
কারা ছিলেন এই অভিশপ্ত বিমানে? দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানে অজিত পাওয়ার ছাড়াও ছিলেন পাইলট-ইন-কমান্ড সুমিত কাপুর, ফার্স্ট অফিসার শাম্ভবী পাঠক, একজন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মী এবং একজন সহকারী। লিয়ারজেট ৪৫-এর মতো উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিজনেস জেটটি মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। বারামতির এসপি জানিয়েছেন, শরীরগুলো এতটাই ঝলসে গিয়েছিল যে প্রাথমিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
তদন্তে ডিজিসিএ: কেন দ্বিতীয় প্রচেষ্টাতেও রানওয়েতে নামতে পারল না বিমানটি? যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি দৃশ্যমানতার অভাব— তা খতিয়ে দেখছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA)। তবে যে বারামতি ছিল অজিত পাওয়ারের রাজনৈতিক দুর্গ, সেখানেই চিরনিদ্রায় গেলেন মহারাষ্ট্রের এই দাপুটে নেতা।