প্লে-ব্যাক ছাড়লেও পকেট গড়ের মাঠ নয়! অরিজিতের মোট সম্পত্তির পরিমাণ জানলে চোখ কপালে উঠবে

মাটির কাছাকাছি থাকা জিয়াগঞ্জের সেই সাধারণ ছেলেটি যে আজ ৪১৪ কোটি টাকার সাম্রাজ্যের অধিপতি, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। মঙ্গলবার রাতে প্লে-ব্যাক থেকে অবসরের ঘোষণা করে অরিজিৎ সিং যখন কোটি ভক্তের হৃদয় ভাঙলেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় উঠে এল তাঁর বিশাল সম্পত্তির খতিয়ান। ৩৮ বছর বয়সেই তিনি নিজেকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যেখানে দাঁড়িয়ে অনায়াসেই গ্ল্যামার জগতকে ‘না’ বলার সাহস দেখানো যায়।
আয়ের উৎস ও আকাশছোঁয়া পারিশ্রমিক: ২০২৫-এর মাঝামাঝি সময়ের হিসেব অনুযায়ী, অরিজিৎ সিং ভারতের অন্যতম ‘হায়েস্ট পেইড’ গায়ক।
প্লে-ব্যাক: একটি সিনেমার গানের জন্য তিনি ২০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক নেন।
কনসার্ট: তাঁর আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস হলো লাইভ শো। দেশে বা বিদেশে একটি কনসার্টের জন্য তিনি ১.৫ কোটি থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত চার্জ করেন।
রয়্যালটি: তাঁর নিজস্ব মিউজিক লেবেল ‘ওরিয়ন মিউজিক’ (Oriyon Music) থেকে প্রতি বছর মোটা অংকের রয়্যালটি তাঁর পকেটে আসে।
বিলাসবহুল জীবন বনাম সাধারণ বোধ: মুম্বইয়ের আন্ধেরিতে অরিজিতের চারটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ২০-২৫ কোটি টাকা। গ্যারেজে রয়েছে মার্সিডিজ-বেঞ্জ এবং রেঞ্জ রোভারের মতো দামী গাড়ি, যার সম্মিলিত বাজারমূল্য ৩.৪ কোটি টাকারও বেশি। অথচ এত বৈভবের মাঝেও তিনি মুর্শিদাবাদে চালান ‘হেঁশেল’ (Heshel), যেখানে মাত্র ৪০ টাকায় পেটভরা খাবার পায় সাধারণ মানুষ।
বিদায়বেলায় অরিজিতের বার্তা: সোশ্যাল মিডিয়ায় নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে অরিজিৎ লিখেছেন, “প্লে-ব্যাক ভোকালিস্ট হিসেবে আমি আর কোনো নতুন কাজ গ্রহণ করব না। আমি এখানেই শেষ করছি (I am calling it off)।” তবে ভক্তদের জন্য সুখবর হলো, হাতে থাকা পুরনো কাজগুলো তিনি শেষ করবেন এবং ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিউজিক’ বা স্বাধীন সঙ্গীত নিয়ে নিয়মিত কাজ চালিয়ে যাবেন। অর্থাৎ, বাণিজ্যিক সিনেমার চাপে নয়, এবার থেকে নিজের শর্তে সুর বাঁধবেন অরিজিৎ।