গর্ভনিরোধক বড়ি বা ইঞ্জেকশন ভুলে যান! এবার ত্বকের নিচে একটি ছোট্ট কাঠিতেই কেল্লাফতে

পরিবার পরিকল্পনার কথা ভাবলেই এতদিন আমাদের মাথায় আসত কন্ডোম, গর্ভনিরোধক বড়ি কিংবা আইইউডি-র (IUD) মতো পদ্ধতি। কিন্তু বড়ির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা আইইউডি-র শারীরিক অস্বস্তির কারণে অনেক মহিলাই দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা পেতে সমস্যায় পড়েন। এই সমস্যার সমাধানেই চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে এল এক অত্যাধুনিক বিকল্প— যা এখন মহারাষ্ট্র সহ ভারতের কিছু অংশে সাড়া ফেলছে।

কী এই নতুন পদ্ধতি? চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘সাবডার্মাল ইমপ্ল্যান্ট’। এটি দেখতে অনেকটা দেশলাই কাঠির মতো ছোট ও নমনীয়। জরায়ুর ভেতরে নয়, এটি বসানো হয় হাতের কনুইয়ের কাছে ত্বকের ঠিক নিচে।

কীভাবে কাজ করে এই ‘ম্যাজিক’ কাঠি? ত্বকের নিচে স্থাপন করার পর এই ইমপ্ল্যান্টটি শরীর ধীরে ধীরে প্রোজেস্টিন নামের একটি হরমোন নিঃসরণ করে। এটি মূলত দুটি কাজ করে:

প্রথমত, এটি ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু নির্গত হতে বাধা দেয়।

দ্বিতীয়ত, এটি জরায়ুর মুখকে এমনভাবে পরিবর্তন করে যাতে শুক্রাণু ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। একবার এটি শরীরে বসালে পরবর্তী তিন বছর আপনাকে গর্ভাবস্থা নিয়ে আর কোনো চিন্তা করতে হবে না।

সুবিধা ও উর্বরতা: অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এটি অপসারণ করলে কি মা হওয়া যাবে? উত্তর হলো— হ্যাঁ। যদি কোনো মহিলা গর্ভধারণ করতে চান, তবে ডাক্তার যেকোনো সময় এটি বের করে দিতে পারেন। ইমপ্ল্যান্ট সরিয়ে নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই শরীরের স্বাভাবিক উর্বরতা ফিরে আসে। যেহেতু এটি জরায়ুর ভেতরে থাকে না, তাই সংক্রমণের ঝুঁকিও অনেক কম।

কোথায় পাওয়া যাচ্ছে? জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের অধীনে মহারাষ্ট্রের ছয়টি জেলা হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজে এই পরিষেবা শুরু হয়েছে। খুব শীঘ্রই মুম্বই ও পুণের মতো বড় শহরগুলোর সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও এটি মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি বসাতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগে, তবে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে এটি করা উচিত।