‘সবই তো একদিন ছাড়তে হবে…’, দাদার বৈরাগ্য নিয়ে এ কী বললেন অরিজিতের বোন?

মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ থেকে উঠে এসে আসমুদ্রহিমাচলকে নিজের কণ্ঠের জাদুতে বুঁদ করে রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অরিজিৎ সিংয়ের এক অভাবনীয় ঘোষণায় ভারতীয় সঙ্গীত জগতে যেন বজ্রপাত হয়েছে। কেরিয়ারের মধ্যগগনে দাঁড়িয়ে গায়ক জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আর কোনও নতুন সিনেমার গানে কণ্ঠ দেবেন না। অরিজিতের এই ‘প্লে-ব্যাক’ ছাড়ার সিদ্ধান্তে যখন তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া, তখন এই বিষয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন তাঁর বোন তথা সঙ্গীতশিল্পী অমৃতা সিং।
অপ্রস্তুত অমৃতা, তবু অবিচল: দাদার এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের কথা অমৃতার জানা ছিল না। আনন্দবাজার অনলাইনের কাছ থেকেই প্রথম এই খবর পান তিনি। শুনে কিছুটা অবাক হলেও, নিজেকে সামলে নিয়ে অমৃতা জানান যে এটি তাঁর দাদার একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। অরিজিতের ব্যক্তিগত জীবনের কোনও পদক্ষেপ নিয়ে তিনি সচরাচর কোনও মন্তব্য করেন না এবং এবারেও তার ব্যতিক্রম হবে না। বোন হিসেবে তিনি দাদার সিদ্ধান্তের পূর্ণ মর্যাদা দিতে চান।
জীবনবোধের গভীর সত্য: একজন সহ-শিল্পী হিসেবে অরিজিতের এই দ্রুত প্রস্থান কি মেনে নেওয়া যায়? এই প্রশ্নের উত্তরে অমৃতা যে কথাটি বললেন, তা যেন অরিজিতের নিরাসক্ত জীবনদর্শনেরই প্রতিফলন। শান্ত গলায় অমৃতা বলেন, “একদিন না একদিন তো সবই ছাড়তে হবে।” অমৃতার এই ছোট্ট বাক্যটিই বুঝিয়ে দেয় যে, গ্ল্যামার আর জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকলেও অরিজিৎ সবসময়ই ছিলেন মাটির কাছাকাছি এবং মোহমুক্ত।
গান কি তবে থামছে? অনুরাগীদের জন্য স্বস্তির খবর এটাই যে, অরিজিৎ গান থামাচ্ছেন না। তিনি প্লে-ব্যাক বা সিনেমার বাণিজ্যিক গান থেকে সরে দাঁড়ালেও স্বাধীনভাবে গান তৈরি করবেন। নিজের পছন্দমতো সুর বাঁধবেন, যা তাঁর প্রাণের কাছের। ৩৮ বছর বয়সে অরিজিতের এই সাহসী সিদ্ধান্ত বলিউডকে বড়সড় ধাক্কা দিলেও, অমৃতার কথা স্পষ্ট করে দিল যে পওয়ার পরিবারের এই বৈরাগ্য অনেক আগে থেকেই পরিকল্পিত ছিল।