বারামতীর ধুলো থেকে মহারাষ্ট্রের কুর্সি— অজিত পওয়ারের জীবনের শেষ অধ্যায় কি বিতর্কিতই রয়ে গেল?

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে তিনি ছিলেন এমন এক অশ্বত্থামা, যাঁকে ছাড়া ক্ষমতার সমীকরণ মেলানো ছিল প্রায় অসম্ভব। শরদ পওয়ারের ভাইপো থেকে এনসিপির সর্বেসর্বা হয়ে ওঠা— অজিত পওয়ারের জীবন যেন কোনো থ্রিলার উপন্যাসের চেয়ে কম কিছু নয়। বুধবার সকালে নিজের খাসতালুক বারামতীতে বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু কেবল একটি প্রাণের অবসান নয়, বরং মারাঠা রাজনীতির একটি শক্তিশালী স্তম্ভের পতন।
উত্থান ও ত্যাগের রাজনীতি: ১৯৫৯ সালে জন্ম নেওয়া অজিতকে মাঝপথেই পড়াশোনা ছাড়তে হয়েছিল বাবার মৃত্যুর কারণে। কাকা শরদ পওয়ারের হাত ধরে ১৯৮২ সালে কংগ্রেসে হাতেখড়ি। ১৯৯১ সালে নিজের সাংসদ পদ ছেড়ে দিয়ে তিনি কাকার জন্য পথ প্রশস্ত করেছিলেন, যাতে শরদ পওয়ার কেন্দ্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হতে পারেন। এই ত্যাগই কাকার চোখে তাঁকে বিশ্বস্ত করে তোলে। এরপর টানা সাতবার বারামতীর বিধায়ক হওয়া এবং চারজন পৃথক মুখ্যমন্ত্রীর অধীনে উপমুখ্যমন্ত্রী থাকা তাঁর রাজনৈতিক কৌশলেরই প্রমাণ দেয়।
কাকা-ভাইপো দ্বন্দ্ব ও বিদ্রোহের মহাকাব্য: যে কাকার হাত ধরে উত্থান, ২০১৯ সালে সেই শরদ পওয়ারের বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেন অজিত। ভোরের আলো ফোটার আগেই দেবেন্দ্র ফড়নবীসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া ছিল ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম বড় চমক। যদিও সেই সরকার ৮০ ঘণ্টাও টেকেনি, কিন্তু অজিত বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তিনি দাবার বোর্ড উল্টে দিতে সক্ষম। পরবর্তীকালে এনসিপি ভেঙে দলের নাম ও প্রতীক (ঘড়ি) ছিনিয়ে নেওয়া ছিল শরদ পওয়ারের জন্য এক বড় ধাক্কা। ২০২৪ সালে নির্বাচন কমিশন অজিতের গোষ্ঠীকেই আসল এনসিপি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
বিতর্ক ও বারামতীর টান: সেচ কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ তাঁর পিছু ছাড়েনি। বিরোধীরা তাঁকে ‘সুযোগসন্ধানী’ বললেও বারামতীর মানুষের কাছে তিনি ছিলেন ঘরের ছেলে। বুধবার সেই নিজের এলাকায় জেলা পরিষদের নির্বাচনী প্রচারে যাওয়ার পথেই থেমে গেল তাঁর জয়যাত্রা। ৬৬ বছর বয়সে বিতর্ক, ক্ষমতা আর জোট রাজনীতির এক পাহাড়প্রমাণ ইতিহাস সঙ্গী করে চিরঘুমে আচ্ছন্ন হলেন মহারাষ্ট্রের এই দাপুটে নেতা।