নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ডে গ্রেফতার মালিক গঙ্গাধর! পুলিশের জালে ধরা পড়ার পর দায় এড়ানোর চেষ্টা ধৃতের

নাজিরাবাদের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অবশেষে গা ঢাকা দিয়েও শেষরক্ষা হলো না। দাউদাউ আগুনে ১৬ জন নিরীহ মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় মূল অভিযুক্ত গোডাউন মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করেছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে তাঁকে জালে তোলেন তদন্তকারীরা। ধৃতের বিরুদ্ধে মোট দুটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে—একটি পুলিশের তরফে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এবং অন্যটি দমকল বিভাগের তরফে।
তদন্তে উঠে এসেছে বিস্ফোরক সব তথ্য। স্থানীয় সূত্রে খবর, ভস্মীভূত দুটি গোডাউনের মালিকই এই গঙ্গাধর দাস। একটি তিনি নিজের ডেকোরেটরস ব্যবসার জন্য ব্যবহার করতেন এবং অন্যটি ভাড়া দিয়েছিলেন জনপ্রিয় খাদ্য বিপণী সংস্থা ‘WOW MOMO’-কে। পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পরও অবশ্য দায় ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, আগুন প্রথমে মোমোর কারখানায় লেগেছিল। তবে পুলিশ ও দমকলের প্রাথমিক অনুমান, ডেকোরেটরস গুদাম থেকেই আগুনের সূত্রপাত।
ধ্বংসস্তূপে মিলল ১৬টি দেহাংশ: ঘটনাস্থল থেকে এখনও পর্যন্ত ১৬টি দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে, যা ময়নাতদন্তের জন্য কাটাপুকুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃতদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। এদিকে ৩ দিন পেরিয়ে গেলেও নাজিরাবাদের ওই কারখানায় এখনও ধিকিধিকি জ্বলছে আগুন। পকেট ফায়ার নেভাতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে দমকলের কর্মীরা।
প্রশাসনের নজর এড়িয়েই কি বেআইনি কারবার? দমকলের তরফে জানানো হয়েছে, চার বিঘা জলাজমি ভরাট করে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এই গুদামগুলো চালানো হচ্ছিল। সেখানে কোনো অগ্নি-নির্বাপন ব্যবস্থা বা বৈধ লাইসেন্স ছিল না। গুদামে মজুত দাহ্য বস্তু এবং গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ আগুনকে আরও বিধ্বংসী করে তুলেছিল। ফরেন্সিক দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। কীভাবে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনের পর দিন এই মরণফাঁদ চলছিল, তা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে পুলিশ ও প্রশাসন।