গোবর কুড়ানো থেকে পদ্মশ্রী! এক বিজ্ঞানীর বাসমতি ম্যাজিকে ভারতের ঘরে আসছে ৫০,০০০ কোটি টাকা

উত্তর প্রদেশের গাজীপুর জেলার এক সাধারণ গ্রাম। যেখানে এক কিশোর তার বাবার সঙ্গে গরু চড়ানো, গোবর পরিষ্কার করা আর মটরশুঁটি তোলার কাজ করত। সেই কিশোরই আজ ২০২৬ সালের পদ্মশ্রী জয়ী বিজ্ঞানী ডঃ অশোক কুমার সিং। যাঁর উদ্ভাবিত বাসমতি চালের জাত আজ ভারতকে বার্ষিক ৫০,০০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা এনে দিচ্ছে।
শৈশব থেকে পিএইচডি: এক লড়াইয়ের গল্প অশোক কুমারের প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়েছিল গ্রামের স্কুলেই। কৃষকের ছেলে হিসেবে কৃষিকাজের প্রতিটি ধাপ তাঁর নখদর্পণে ছিল। ১৯৮৬ সালে তিনি দিল্লির ইন্ডিয়ান এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটে (IARI) পিএইচডি করতে আসেন। ১৯৯৪ সালে বিজ্ঞানী হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁর ধ্যান-জ্ঞান হয়ে ওঠে বাসমতির মানোন্নয়ন।
যেভাবে বাসমতিকে বিশ্বসেরা করলেন: ঐতিহ্যবাহী বাসমতি চালের ফলন ছিল কম এবং এই ধান পাকতে সময় নিত প্রায় ১৬০ দিন। অশোক সিং উদ্ভাবন করেন ‘পুসা বাসমতি ১৫০৯’ এবং ‘পুসা বাসমতি ১৬৯২’। এই জাতগুলো মাত্র ১২০ দিনে পাকে। এর ফলে কৃষকরা ধান কাটার পর একই জমিতে আলু, মটর বা ভুট্টা চাষের সুযোগ পাচ্ছেন, যা তাঁদের আয় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিষমুক্ত চাল ও বৈদেশিক বাণিজ্য: এক সময় ইউরোপীয় দেশগুলো ভারতীয় চাল ফেরত পাঠিয়ে দিত কারণ তাতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক থাকত। ডঃ সিং এমন কিছু জাত তৈরি করেছেন যা রোগ প্রতিরোধী। ফলে কীটনাশক স্প্রে করার প্রয়োজন পড়ে না। বর্তমানে ভারতের মোট কৃষি রপ্তানির ১২ শতাংশই আসে তাঁর উদ্ভাবিত বাসমতি থেকে। প্রায় ২৫ লক্ষ হেক্টর জমিতে এই ধান চাষ হচ্ছে, যা বিশ্ববাজারে ভারতের দাপট বজায় রেখেছে।