ভোটের আগে নবান্নর মাস্টারস্ট্রোক! ২৩ জেলায় ২৩ হাই-প্রোফাইল অফিসার, লক্ষ্য কি শুধুই উন্নয়ন?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে কোমর বেঁধে নামছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোর কাজ কতদূর এগোল, তা সরাসরি খতিয়ে দেখতে এবার নজিরবিহীন প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল নবান্ন। ২৩টি জেলার জন্য ২৩ জন অত্যন্ত সিনিয়র অফিসারকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের প্রধান কাজ হবে খাতা-কলমে নয়, বরং সরজমিনে গিয়ে প্রকল্পের বাস্তব চিত্র খতিয়ে দেখা এবং দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়া।
নজরদারির মূলে কী কী থাকছে? প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ভোটের আগে কোনো প্রকল্পের কাজ যেন ঝুলে না থাকে, তা নিশ্চিত করাই এই অফিসারদের মূল লক্ষ্য। স্থানীয় স্তরে উন্নয়ন কাজের গতি বাড়ানো এবং যেকোনো জটিলতা দ্রুত সমাধান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই উচ্চপর্যায়ের নজরদারি ব্যবস্থা।
‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে নতুন গতি: রাজ্য সরকারের অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্প নিয়ে বড়সড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন সুবিধাভোগীদের তালিকা ইতিমধ্যেই প্রস্তুত। এই প্রকল্পের অর্থ সরাসরি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। তবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবার কড়া নিয়ম জারি করা হয়েছে:
জিও-ট্যাগিং: ঘর নির্মাণের প্রতিটি ধাপের ছবি ও ভিডিও জিও-ট্যাগ করে মোবাইল অ্যাপে আপলোড করতে হবে।
ক্রস-চেকিং: জেলা ও ব্লক পর্যায়ে আধিকারিকরা সরাসরি তথ্য যাচাই করবেন।
অভিযোগ মোকাবিলা: প্রতিটি এলাকায় অভিযোগ বাক্স রাখা হবে এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের পর ধাপে ধাপে ঘর তৈরির টাকা দেওয়া হবে। মূলত এই বিশাল কর্মযজ্ঞে যাতে কোনো গাফিলতি না হয়, সে জন্যই ২৩ জন বিশেষ অফিসারকে মাঠে নামিয়েছে রাজ্য। সঠিক সময়ে কাজের প্রতিবেদন প্রশাসনের কাছে পৌঁছলে যেমন দ্রুত অর্থ বরাদ্দ হবে, তেমনই সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমন করাও সম্ভব হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।