বিশেষ: অজিত পাওয়ার একবারও মুখ্যমন্ত্রী হননি, তবু কেন ছিলেন মহারাষ্ট্রের মুকুটহীন ‘বাদশা’?

রাজনীতিতে তিনি ছিলেন ‘আনক্রাউনড কিং’ বা মুকুটহীন সম্রাট। মহারাষ্ট্রের যে কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ মেলাতে তাঁর নাম ছিল অনিবার্য। কিন্তু বুধবার সকালের এক অভিশপ্ত বিমান দুর্ঘটনা স্তব্ধ করে দিল অজিত পাওয়ারের ৪৫ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই। বারামতির কাছে বিমান ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রীর।

পড়াশোনা ছেড়ে ধরেন কাকার হাত: ১৯৫৯ সালে আহমেদনগরে জন্ম অজিত পাওয়ারের। চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত বাবা অনন্তরাও পাওয়ারের মৃত্যুর পর পড়াশোনা মাঝপথেই ছেড়ে দিতে হয় তাঁকে। সেই কঠিন সময়ে কাকা শরদ পাওয়ারের হাত ধরে রাজনীতির আঙিনায় প্রবেশ। সমবায় ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে ১৯৯১ সালে বারামতির সাংসদ হওয়া— অজিত বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া। পরে কাকার জন্য লোকসভা আসন ছেড়ে দিলেও মহারাষ্ট্রের বিধানসভায় তিনি হয়ে ওঠেন অপরাজেয়।

বিদ্রোহ এবং ‘ম্যাজিক’ রাজনীতি: অজিত পাওয়ারের রাজনৈতিক জীবনের সবথেকে নাটকীয় মোড় আসে ২০১৯ সালে। এক বছরে দুই ভিন্ন মুখ্যমন্ত্রীর অধীনে উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে বিশ্ব রেকর্ড করার উপক্রম করেছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২২ সালে কাকা শরদ পাওয়ারের সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ জাতীয় রাজনীতিতে ঝড় তোলে। মেয়ে সুপ্রিয়া সুলেকে শরদ পাওয়ার উত্তরাধিকারী ঘোষণা করতেই বিদ্রোহী হন অজিত। নিজের অনুগামী বিধায়কদের নিয়ে যোগ দেন বিজেপি-শিন্ডে জোটে এবং বাগিয়ে নেন এনসিপির রাশ।

রেকর্ড গড়া কেরিয়ার:

৭ বার বিধায়ক: ১৯৯৫ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বারামতি কেন্দ্র থেকে টানা জয়।

৬ বার উপ-মুখ্যমন্ত্রী: মহারাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম রেকর্ড।

বিচক্ষণ সংগঠক: central রাজনীতিতে পিভি নরসিংহ রাও সরকারের আমল থেকে নিজের গুরুত্ব বজায় রেখেছেন।

অধরাই রয়ে গেল স্বপ্ন: ছয় বার উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদের দায়িত্ব সামলালেও মহারাষ্ট্রের কুর্সিতে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বসার স্বপ্নটি অজিতের জীবনে অপূর্ণই থেকে গেল। বুধবার যখন তিনি জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারে যাচ্ছিলেন, তখনই কালবৈশাখীর মতো নেমে এল যমদূত। তাঁর মৃত্যুতে কেবল বারামতি নয়, ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হলো।