সিঙ্গুরে মোদীর পাল্টায় মমতার মেগা শো! ২ লক্ষ জমায়েতের লক্ষ্য নিয়ে কি নয়া ধামাকা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী?

বিধানসভা ভোটের দামামা বাজার আগেই বাংলার রাজনীতির এপিসেন্টার হয়ে উঠল সেই ঐতিহাসিক সিঙ্গুর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভার ঠিক দশ দিনের মাথায়, বুধবার সিঙ্গুরে পাল্টা সভা করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুরের বারুইপাড়া পলতাগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ইন্দ্রখালি এলাকায় এই সভার আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই সভাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছেন মন্ত্রী বেচারাম মান্না সহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
বেচারাম মান্নার দাবি, “মোদীর সভায় ভিড় ছিল নগণ্য, কিন্তু মমতার সভায় ২ লক্ষের বেশি মানুষ আসবে।” তিনি আরও আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “মোদীবাবু সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে বাংলাকে বঞ্চনা ও অপমান করে গিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বুধবার সেই বঞ্চনার কড়া জবাব দেবেন এবং সিঙ্গুরের জন্য একগুচ্ছ উন্নয়নের ডালি নিয়ে আসবেন।” জানা গিয়েছে, এই সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের সহায়তা প্রদান করবেন।
তবে সিঙ্গুর নিয়ে রাজনীতির জল অনেক দূর গড়িয়েছে। ২০০৮ সালে টাটাদের বিদায় এবং ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জমি ফেরতের পর আজও সেই জমিতে চাষ বা শিল্প—কোনোটিই পূর্ণতা পায়নি বলে অভিযোগ বিরোধীদের। বিজেপির রাজ্য সম্পাদক দীপাঞ্জন গুহ কটাক্ষ করে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর উত্থান যে শিল্পকে কেন্দ্র করে, সেই শিল্প আজ কোথায়? ওনার শিল্প মানেই চপ শিল্প। সাধারণ মানুষকে না ঠকিয়ে আসল কর্মসংস্থানের কথা ভাবলে ভালো হতো।”
সিঙ্গুরবাসী এখন দুই হেভিওয়েটের লড়াইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে কেবল একটাই উত্তর খুঁজছে—আগামীর কর্মসংস্থান কোন পথে? মোদীর সভায় শিল্পের নির্দিষ্ট দিশা না মেলায় যে আক্ষেপ ছিল, মমতার সভা কি তা পূরণ করতে পারবে? বুধবারের সভার দিকেই এখন তাকিয়ে গোটা রাজ্য।