“মরতে মরতে ফিরেছি…”, আনন্দপুরের বিভীষিকায় কেউ ঝাঁপ দিলেন ছাদ থেকে, কেউ ঘুমেই হলেন ভস্মীভূত

আনন্দপুরের সেই ডেকোরেটরস গোডাউন এখন এক শ্মশানপুরী। আগুন নেভার পর ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে একের পর এক বের হয়ে আসছে বীভৎসভাবে পুড়ে যাওয়া নিথর দেহ। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। তবে নিখোঁজের সংখ্যা যা, তাতে প্রাণহানি আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, কেবল পূর্ব মেদিনীপুর জেলারই ১৩ জন শ্রমিকের হদিস মিলছে না। উদ্ধারকাজ যত এগোচ্ছে, ততই প্রকট হচ্ছে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের বীভৎসতা।

এদিকে, এই নারকীয় ঘটনার মূল অভিযুক্ত তথা ডেকোরেটরস ও মোমো কারখানার মালিক গঙ্গাধর দাসকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গড়িয়ার একটি গোপন ডেরা থেকে তাঁকে জালে তোলা হয়। আজ, বুধবার তাঁকে বারুইপুর আদালতে পেশ করা হবে। চার দশকের পুরনো এই ব্যবসার মালিক গঙ্গাধর ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন। পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে তাঁর পৈতৃক বাড়িতেও তালা ঝুলছে।

তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য: দমকল আধিকারিকরা স্বীকার করেছেন যে, প্রায় চার বিঘা জমির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই ইউনিটে কোনো অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থাই ছিল না। প্লাস্টিকের ফুল, কাঠ এবং দাহ্য কাপড়ে ঠাসা এই গুদামে ১৫০ থেকে ২০০ জন শ্রমিক কাজ করতেন। দমকলের ১২টি ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে এখনও ধোঁয়া বেরোচ্ছে।

রাজ্য সরকার নিহতদের পরিবারের জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে। তবে দেহাংশ এতটাই পুড়ে গিয়েছে যে, ডিএনএ (DNA) পরীক্ষা ছাড়া শনাক্তকরণ অসম্ভব। আজই সেই পরীক্ষার জন্য আদালতের অনুমতি চাওয়া হবে। মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মেয়র ফিরহাদ হাকিম কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

বেঁচে ফেরা শ্রমিক সুশান্ত বেরার কথায় উঠে এল সেই কালরাত্রির বর্ণনা। তিনি বলেন, “সবাই ঘুমোচ্ছিল। হঠাৎ চিৎকার আর কালো ধোঁয়ায় ঘর ভরে যায়। দরজা দিয়ে বেরোনোর উপায় ছিল না, প্রাণ বাঁচাতে ছাদ থেকে ঝাঁপ দিতে হয়েছে।” এখন কেবল ধ্বংসস্তূপের মাঝে প্রিয়জনদের খুঁজে পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন স্বজনহারা পরিবারগুলো।