বিনা মাটি ও জলেই মরুভূমিতে জন্মচ্ছে অদ্ভুত গাছ! বারমেরের এই ‘জাদুকরী’ উদ্ভিদ দেখলে চোখ কপালে উঠবে

রাজস্থানের মরুশহর বারমের বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে মাইলের পর মাইল তপ্ত বালুরাশি আর জলের হাহাকার। কিন্তু সেই চেনা ছবিটাই এবার বদলে যাচ্ছে এক অবিশ্বাস্য প্রাকৃতিক বিস্ময়ে। মাটি নেই, নেই টব, এমনকি নিয়মিত জল দেওয়ার বালাইও নেই—তবুও সগৌরবে বেড়ে উঠছে সবুজ গাছ। প্রকৃতির এই অদ্ভুত সৃষ্টি ‘এয়ার প্ল্যান্ট’ বা টিলান্ডসিয়া (Tillandsia) এখন বারমেরের ঘরে ঘরে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
সাধারণত যে কোনো উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য মাটি ও পর্যাপ্ত জলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু টিলান্ডসিয়া প্রজাতিটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। এরা বাতাস থেকে আর্দ্রতা এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষণ করে বেঁচে থাকে। বারমেরে যেখানে জল এবং সবুজায়ন সবসময়ই বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে এই বায়ু উদ্ভিদ পরিবেশপ্রেমীদের কাছে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। শহরের মা সতী দক্ষিণায়নী মন্দিরের সভাপতি বাসুদেব জোশী নিজের বাগানে এই উদ্ভিদ লাগিয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তার সংগ্রহে থাকা গাছগুলি এখন পর্যটক ও স্থানীয়দের ভিড় টানছে।
কেন জনপ্রিয় হচ্ছে এই বায়ু উদ্ভিদ? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গাছগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত সহজ। মাটি বা সারের ঝামেলা নেই বলে ঘরের ভেতরে বা অফিসে সাজসজ্জার জন্য এটি আদর্শ। তরুণ প্রজন্ম এবং পরিবেশবিদরা কাচের বোতল, কাঠের ফ্রেম বা এমনকি শুধু ঝুলািয়ে রেখেও এই গাছ চাষ করছেন। টিলান্ডসিয়া আয়নান্থা, জেরোগ্রাফিকা, ক্যাপুট-মেডুসে এবং বুলবোসার মতো প্রজাতিগুলো মরুভূমির চরম আবহাওয়ায় খুব সহজেই খাপ খাইয়ে নিতে পারে।
পরিবেশবিদ আনন্দ দাগার জানিয়েছেন, “শুষ্ক অঞ্চলে সবুজায়ন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটি একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ। এই গাছগুলি শুধুমাত্র কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে বাতাস পরিষ্কার রাখে না, বরং মরুভূমির রুক্ষ পরিবেশে এক চিলতে প্রশান্তি এনে দেয়।” দীর্ঘ সময় ধরে ফুল ফোটা এবং এদের অনন্য জ্যামিতিক গঠন ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বারমেরের মতো জলকষ্টের এলাকায় বিনা জলেই সবুজের এই অভিযান নিশ্চিতভাবেই আগামী দিনে এক নয়া ট্রেন্ড তৈরি করতে চলেছে।