প্রেমের ফাঁদে সর্বনাশ! ব্যক্তিগত ছবি তুলে ব্ল্যাকমেল, কালিয়াচকে চরম পথ বেছে নিলেন কলেজ ছাত্রী

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রেমের রঙিন হাতছানি যে শেষ পর্যন্ত এমন বিষাদময় পরিণতি ডেকে আনবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি মালদহের কালিয়াচকের নবীনগর আলীজান বিশ্বাসটোলা এলাকা। প্রেমের ফাঁদে পড়ে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে ব্ল্যাকমেলের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী হলেন ২২ বছরের কলেজ ছাত্রী মমতা খাতুন। মঙ্গলবার সকালে নিজের শোয়ার ঘর থেকেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
মৃতার পরিবারের অভিযোগ, পার্শ্ববর্তী সিলামপুর মহালদার পাড়ার বাসিন্দা রিঙ্কু মহলদার নামে এক যুবকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল মমতার। অভিযোগ, সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে রিঙ্কু মমতার বেশ কিছু আপত্তিকর ছবি তুলে রাখে। এরপর সেই ছবি ব্যবহার করেই শুরু হয় নারকীয় ব্ল্যাকমেল। রিঙ্কু কেবল ছবি দেখিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, মমতাকে দিনের পর দিন শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করত এবং প্রতিবাদ করলে খুনের হুমকিও দিত বলে দাবি পরিবারের।
মৃতার কাকা শফিকুল হক সরাসরি পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, “আমরা অনেক আগেই রিঙ্কুর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সময়মতো পদক্ষেপ নিলে আজ আমাদের মেয়েকে মরতে হতো না।” পরিবারের দাবি, মানসিক অবসাদ এবং লোকলজ্জার ভয়েই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন মমতা।
খবর পেয়ে কালিয়াচক থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত যুবকের সন্ধানে তল্লাশি শুরু হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরেও তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে জেলা পুলিশ মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।