গলায় কি একটানা ব্যথা হচ্ছে? ৩ মাস পেরোলেই বিপদ! মারণ রোগ বাসা বাঁধছে না তো?

শরীরের সামান্য অস্বস্তি অনেক সময় বড় কোনো বিপদের সংকেত হতে পারে। বিশেষ করে গলা ব্যথা বা কণ্ঠস্বরের পরিবর্তনকে আমরা অনেকেই সাধারণ ঠান্ডা লাগা ভেবে এড়িয়ে চলি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি নিচের লক্ষণগুলি টানা ৩ মাসের বেশি স্থায়ী হয়, তবে তা গলার ক্যান্সারের (Throat Cancer) পূর্বাভাস হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ না নিলে এটি আপনাকে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে।
প্রধান লক্ষণসমূহ যা এড়িয়ে যাওয়া বিপজ্জনক:
দীর্ঘস্থায়ী গলা ব্যথা: কোনো কারণ ছাড়াই গলায় ক্রমাগত ব্যথা এবং অস্বস্তি হওয়া গলার ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ। এটি ৩ মাসের বেশি স্থায়ী হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
গিলতে অসুবিধা (Dysphagia): খাবার চিবানো বা গিলতে গিয়ে ব্যথা অনুভব করা কিংবা গলায় কিছু আটকে আছে এমন অনুভূতি হওয়া মোটেও ভালো লক্ষণ নয়।
কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন: কোনো ইনফেকশন ছাড়াই যদি গলার আওয়াজ কর্কশ হয়ে যায় বা বদলে যায়, তবে সতর্ক হন।
শ্বাসকষ্ট ও কাশি: দীর্ঘদিনের কাশি, কাশির সঙ্গে রক্তপাত এবং শ্বাস নিতে অসুবিধা হওয়া এই মারণ রোগের অন্যতম উপসর্গ।
অন্যান্য শারীরিক পরিবর্তন:
গলার পাশাপাশি আরও কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যেমন— কানে অসহ্য ব্যথা, মুখ খুলতে বা জিভ নাড়াতে কষ্ট হওয়া। অনেক ক্ষেত্রে জিভে সাদা দাগও দেখা যায়। এছাড়া নাক থেকে রক্তপাত, ঘাড়ের চামড়া শক্ত হয়ে যাওয়া বা ঘাড় ঘোরাতে সমস্যা হওয়াকেও অবহেলা করা উচিত নয়।
সবশেষে, যদি কোনো বিশেষ কারণ ছাড়াই আপনার ওজন দ্রুত কমতে শুরু করে এবং আপনি সারাদিন অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব করেন, তবে দেরি না করে আজই বায়োপসি বা প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং করিয়ে নিন। মনে রাখবেন, ক্যান্সার মানেই মৃত্যু নয়, যদি তা প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে। তাই লক্ষণ দেখা দিলে নিজেই ওষুধ না খেয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।