“আপনার অবদান কী?” নোবেলজয়ীকে চরম তোপ বিরোধী দলনেতার, তুঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাত

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অমর্ত্য সেনের সমালোচনার পাল্টা হিসেবে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নোবেলজয়ীর প্রাসঙ্গিকতা এবং বাংলার প্রতি তাঁর অবদান নিয়ে প্রশ্ন তুলে কার্যত সংঘাতের আবহ তৈরি করেছেন বিজেপি নেতা।

কী বলেছিলেন অমর্ত্য সেন? সম্প্রতি বস্টন থেকে সংবাদসংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতরত্ন অমর্ত্য সেন অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ‘অযথা তাড়াহুড়ো’ করা হচ্ছে। তাঁর মতে, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো স্পর্শকাতর কাজে জনগণকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হচ্ছে না। নিজের নাগরিকত্ব বা ভোটার হিসেবে পরিচয় প্রমাণ করার জন্য যে নথিপত্র প্রয়োজন, তা জমা দেওয়ার সময় অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। প্রবীণ এই অধ্যাপকের আশঙ্কা, এভাবে তাড়াহুড়ো করলে প্রকৃত ভোটাররা বঞ্চিত হতে পারেন, যা সরাসরি ভারতীয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর।

শুভেন্দুর বিস্ফোরক পাল্টা: অমর্ত্য সেনের এই উদ্বেগকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিতে নারাজ শুভেন্দু অধিকারী। উল্টে তিনি ব্যক্তিগত আক্রমণ করতেও পিছপা হননি। শুভেন্দু বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে একটা শিক্ষিত যুবককে উনি কর্মসংস্থান করে দিয়েছেন, কিংবা কোনো গরিব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন—এমন কোনো উদাহরণ নেই। বাংলার উন্নয়নে যাঁর কোনো অবদান নেই, তাঁর এই ধরণের মন্তব্যের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করি না।” শুভেন্দুর এই মন্তব্যে পরিষ্কার যে, বিজেপি এই ইস্যুতে পিছু হঠতে রাজি নয়।

বিতর্কের প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, শান্তিনিকেতনে জমি সংক্রান্ত বিতর্কের পর থেকেই অমর্ত্য সেন এবং রাজ্য বিজেপির সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। সম্প্রতি ৯২ বছর বয়সি এই অধ্যাপককে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নোটিস পাঠানো হয়েছিল। বিদেশে থাকায় তিনি নিজে হাজিরা দিতে না পারলেও তাঁর প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু প্রক্রিয়ার গতিপ্রকৃতি নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য আগুন উসকে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে যখন নাগরিকত্ব এবং ভোটার তালিকা নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েন তুঙ্গে, তখন অমর্ত্য সেনের মতো ব্যক্তিত্বের মন্তব্য বিরোধী শিবিরের হাতিয়ার হতে পারত। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী পাল্টাতে তোপ দেগে সেই সমালোচনাকে নস্যাৎ করার কৌশল নিয়েছেন। সব মিলিয়ে, এসআইআর ইস্যু এখন অমর্ত্য বনাম শুভেন্দু দ্বৈরথে পরিণত হয়েছে।