কেদারনাথ-বদ্রীনাথে অহিন্দুদের প্রবেশ কি চিরতরে নিষিদ্ধ? বিরাট সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে মন্দির কমিটি

উত্তরাখণ্ডের পবিত্র চার ধাম যাত্রার অন্যতম দুই স্তম্ভ কেদারনাথ এবং বদ্রীনাথ মন্দিরে প্রবেশাধিকার নিয়ে ঐতিহাসিক এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে মন্দির কমিটি। কমিটির পরবর্তী বৈঠকেই একটি বিশেষ প্রস্তাব পাশ হতে পারে, যেখানে হিন্দু ধর্মের বাইরে অন্য ধর্মের মানুষদের অর্থাৎ ‘অহিন্দু’দের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। মন্দির কমিটির প্রেসিডেন্ট হেমন্ত দ্বিবেদী এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে স্পষ্ট করেছেন যে, কেবল এই দুই ধামই নয়, তাঁদের অধীনে থাকা উত্তরাখণ্ডের সমস্ত মন্দিরের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম কার্যকর করা হবে।

হেমন্ত দ্বিবেদীর যুক্তি অনুযায়ী, কেদারনাথ এবং বদ্রীনাথ কোনো সাধারণ পর্যটন কেন্দ্র নয়। এগুলি বৈদিক পরম্পরায় আদি শঙ্করাচার্যের হাতে প্রতিষ্ঠিত অত্যন্ত পবিত্র ধর্মস্থান। তিনি সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে বলেন, “ভারতীয় সংবিধানের ২৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী প্রতিটি ধর্মকেই তাদের ধর্মীয় আচার ও শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের অধিকার দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কারও বিরুদ্ধে নয়, বরং মন্দিরের শতাব্দী প্রাচীন আস্থা এবং পবিত্রতা রক্ষার একটি প্রচেষ্টা মাত্র।”

তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে শিখ বা জৈন ধর্মের মানুষেরা মন্দিরে প্রবেশ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে সংশয় তৈরি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে এনডিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দ্বিবেদী জানিয়েছেন, “সনাতন ধর্মে যাঁদেরই বিশ্বাস আছে, তাঁদের প্রত্যেককেই কেদারনাথ এবং বদ্রীনাথ ধামে স্বাগত জানানো হবে।” এর পাশাপাশি মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে একটি খুশির খবরও দেওয়া হয়েছে। বসন্ত পঞ্চমীর শুভ তিথি মেনে জানানো হয়েছে যে, আগামী ২৩ এপ্রিল ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হবে বদ্রীনাথ ধামের দরজা। প্রথা মেনে তেহরি জেলার নরেন্দ্র নগরে পুজোর পরেই এই শুভক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছে।