এক ক্লিকে ১৯ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর অ্যাকাউন্টে ৯৪৫ কোটি! প্রজাতন্ত্র দিবসে পড়ুয়াদের বড় উপহার মুখ্যমন্ত্রীর

লখনউয়ের ইন্দিরা গান্ধী প্রতিষ্ঠানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ফের একবার কড়া মেজাজে আক্রমণ করলেন বিরোধীদের। গরিব ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে তিনি সাফ জানান, আগের সরকারগুলির অলসতা এবং দুর্নীতির কারণেই মেধাবী পড়ুয়ারা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতো।
সরাসরি অ্যাকাউন্টে বৃত্তির টাকা মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য স্বচ্ছতার সঙ্গে ডিবিটি (Direct Benefit Transfer) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৮,৭৮,৭২৬ জন ছাত্রছাত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ৯৪৪.৫৫ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে। এর ফলে বৃত্তির টাকা মাঝপথে আত্মসাৎ করার রাস্তা বন্ধ হয়েছে। তিনি বলেন, “আগে পরিবারবাদ আর বিভাগীয় দুর্নীতির কারণে টাকা সঠিক জায়গায় পৌঁছাত না, কিন্তু এখন এক ক্লিকেই সব টাকা সরাসরি পড়ুয়াদের হাতে।”
বিরোধীদের কটাক্ষ সকাল সকাল কাজে নামার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “যাঁরা বেলা ১২টা পর্যন্ত ঘুমিয়ে কাটান, তাঁরা গরিবের সন্তানদের পড়াশোনা নিয়ে চিন্তা করবেন কীভাবে? যাঁরা সূর্য ওঠার পর ঘুম থেকে ওঠেন, তাঁরা সূর্যোদয়ের গুরুত্ব বোঝেন না।” তিনি দাবি করেন, যখন উদ্দেশ্য সৎ থাকে, তখনই উন্নয়ন সম্ভব।
শিক্ষায় বৈপ্লবিক বদল মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সরকারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে বলেন:
অপারেশন কায়াকল্প: পরিষদীয় বিদ্যালয়গুলির পরিকাঠামো আমূল বদলে দেওয়া হয়েছে।
অভ্যুদয় কোচিং: নিট (NEET), জেইই (JEE) এবং ইউপিএসসি-র জন্য বিনামূল্যে প্রস্তুতির সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
ক্রীড়া উন্নয়ন: প্রতিটি গ্রামে খেলার মাঠ এবং মিরাটে মেজর ধ্যানচাঁদ স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি গড়া হচ্ছে।
প্রযুক্তি: ড্রোন টেকনোলজি ও রোবোটিক্সের মতো আধুনিক শিক্ষায় জোর দেওয়া হচ্ছে।
পেশাগত জীবনে সফল হওয়া এক ছাত্রীর উদাহরণ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যুবকদের স্বাবলম্বী করে তোলাই তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য। এই অনুষ্ঠানে ওম প্রকাশ রাজভর, অসীম অরুণ এবং দানিশ আজাদ আনসারির মতো বরিষ্ঠ মন্ত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন।