ভোটার তালিকায় নিয়োগ-দুর্নীতি! বসিরহাটের বিডিও-কে সাসপেন্ডের নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

বাংলার ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্কে এবার হাতেনাতে ফল মিলল। বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনস্থ বসিরহাট-২ ব্লকের বিডিও তথা অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (AERO) সুমিত প্রতিম প্রধানকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। নিয়ম লঙ্ঘন করে ‘বেআইনি নিয়োগ’ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের মূলে কী? বিডিও সুমিত প্রতিম প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তিনি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং নিজের এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে ১১ জন ‘অতিরিক্ত এইআরও’ নিয়োগ করেছিলেন। নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট বক্তব্য, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫০-এর ১৩সি ধারা অনুযায়ী, একজন বিডিও-র এই ধরনের নিয়োগ করার কোনও ক্ষমতাই নেই। তা সত্ত্বেও তিনি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নোটিস জারি করে শুনানি প্রক্রিয়া চালাচ্ছিলেন। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই অনিয়ম নিয়ে আগেই সরব হয়েছিলেন।

কমিশনের কড়া নির্দেশ: জাতীয় নির্বাচন কমিশন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী ভট্টাচার্যকে পাঠানো চিঠিতে জানিয়েছে:

অভিযুক্ত বিডিও-কে অবিলম্বে সাসপেন্ড করতে হবে।

বিডিও দ্বারা নিযুক্ত সেই ১১ জন অতিরিক্ত আধিকারিকের নেওয়া সমস্ত সিদ্ধান্ত এবং কর্মকাণ্ডকে ‘অবৈধ’ বা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করতে হবে।

আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুখ্যসচিব ও সিইও দফতরকে এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: কমিশনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ। তাঁর মতে, সুষ্ঠুভাবে ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য এটি একটি ‘সদর্থক পদক্ষেপ’। তিনি বলেন, “সব কিছু ঠিকমতো করতে গেলে কমিশনকে কঠিন হতে হয়, এটা সেই কঠিন হওয়ারই প্রথম ধাপ।”