প্রজাতন্ত্র দিবসে মমতার কড়া বার্তা, ‘চিরন্তন সতর্কতাই স্বাধীনতার মূল্য’! সংবিধান রক্ষা নিয়ে সুর চড়ালেন তৃণমূল নেত্রী

নয়াদিল্লির কর্তব্যপথে যখন ভারতের সামরিক শক্তির আস্ফালন চলছে, ঠিক তখনই দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও সংবিধানের ভবিষ্যৎ নিয়ে জোরালো সওয়াল করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি সংবিধান রক্ষার লড়াইয়ে শামিল হওয়ার ডাক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের এই বার্তায় উৎসবের মেজাজের চেয়েও বেশি ফুটে উঠেছে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক গভীর উদ্বেগ।
মমতার সতর্কবার্তা: ‘সতর্কতাই স্বাধীনতার রক্ষাকবচ’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বার্তায় ভারতের সংবিধানের স্তম্ভ—ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সাম্য এবং ভ্রাতৃত্বের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে ভারতের বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থাকে রক্ষা করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একটি পুরোনো প্রবাদকে হাতিয়ার করে তিনি বলেন, “চিরন্তন সতর্কতাই হলো স্বাধীনতার আসল মূল্য।” অর্থাৎ, জনগণের সম্মিলিত সতর্কতা ছাড়া যে প্রজাতন্ত্র ও সংবিধান নিরাপদ নয়, সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন নেত্রী।
অভিষেকের লড়াইয়ের ডাক: ‘নীরব আঘাতে খণ্ডিত হচ্ছে সংবিধান’ অন্যদিকে, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রজাতন্ত্র দিবসকে নিছক একটি ছুটির দিন বা উদযাপনের দিন হিসেবে না দেখে ‘আত্মবিশ্লেষণের দিন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, বিচার, স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব কেবল সংবিধানে লেখা কয়েকটি শব্দ নয়, এগুলি আমাদের পূর্বপুরুষদের রক্ত ও সংগ্রামের জীবন্ত প্রতিশ্রুতি।
তবে তাঁর বার্তায় ছিল কড়া রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি। অভিষেক অভিযোগ করেন, বর্তমান সময়ে সংবিধানকে এক আঘাতে নয়, বরং অসংখ্য ‘নীরব আঘাতে’ খণ্ডিত করা হচ্ছে। বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের ভাষা, খাদ্য, বিশ্বাস ও মতপ্রকাশের মৌলিক অধিকারগুলি আজ প্রশ্নের মুখে। তিনি বলেন, “প্রজাতন্ত্র ক্ষমতার দয়ায় টিকে থাকে না, বরং মানুষ প্রতিদিন তাকে বেছে নেয় বলেই টিকে থাকে।”
কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের সুর? তৃণমূল নেতৃত্বের এই জোড়া বার্তায় দিল্লির কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থার প্রতি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একদিকে বন্দে ভারত স্লিপারের মেনু থেকে শুরু করে ট্রাম্প জমানায় সোনার দামের অস্থিরতা নিয়ে যখন জনমানসে চর্চা চলছে, ঠিক তখনই সংবিধান রক্ষার এই ডাক রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
তৃণমূলের শীর্ষ দুই নেতার কথায় স্পষ্ট, ৭৭তম এই প্রজাতন্ত্র দিবসে তাঁদের মূল লক্ষ্য কেবল কুচকাওয়াজ নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে মজবুত রাখা এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধারের সংকল্প নেওয়া।