প্রজাতন্ত্র দিবস ২০২৬: মাঝরাতে দিল্লি মেট্রো, প্রথমবারের মতো জান্সকার পনি আর ব্যাকট্রিয়ান উট—কী কী চমক থাকছে?

নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক কর্তব্যপথে এখন সাজসাজ রব। আগামী কাল সোমবার ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসে দেশের সামরিক শক্তি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের যে বর্ণাঢ্য প্রদর্শন হতে চলেছে, তার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। প্রচণ্ড শীত আর বৃষ্টি উপেক্ষা করে গত ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি হয়ে গেল কুচকাওয়াজের পূর্ণাঙ্গ মহড়া (Full Dress Rehearsal)। এবারের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকছেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লিয়েন।
অপারেশন সিন্দুর: শক্তির প্রদর্শন এবারের কুচকাওয়াজে মূল আকর্ষণ হতে চলেছে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর ওপর নির্মিত ত্রি-বাহিনী (Tri-services) ট্যাবলো। যেখানে প্রদর্শিত হবে কীভাবে সু-৩০ (Su-30 MKI) ফাইটার জেটের মাধ্যমে ব্রাহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র পাকিস্তানের বায়ুসেনা ঘাঁটি ধ্বংস করেছিল। এছাড়াও থাকছে বিশ্বের দীর্ঘতম রেঞ্জ থেকে লক্ষ্যভেদে সক্ষম এস-৪০০ (S-400) এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং দেশীয় প্রযুক্তির হাইপারসনিক গ্লাইড মিসাইল এলআর-এশএম (LR-AShM)।
কুচকাওয়াজে নতুন মুখ: পনি ও উট সামরিক বাহিনীর চিরচেনা ঘোড়া বা উটের পাশাপাশি এবারই প্রথম কর্তব্যপথে দেখা যাবে লাদাখের প্রতিকূল আবহে কাজ করা জান্সকার পনি (Zanskar Ponies) এবং দুই কুঁজবিশিষ্ট ব্যাকট্রিয়ান উট (Bactrian Camels)। এছাড়া ভৈরব ব্যাটেলিয়ন ও শক্তিবান রেজিমেন্ট প্রথমবারের মতো কুচকাওয়াজে অংশ নিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে চলেছে।
থিম: বন্দে মাতরম ও আত্মনির্ভর ভারত এ বছর জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্যারেডের মূল থিম রাখা হয়েছে ‘স্বাধীনতার মন্ত্র: বন্দে মাতরম’। কর্তব্যপথ জুড়ে ১৯২৩ সালের আঁকা বন্দে মাতরমের অলঙ্করণ দেখা যাবে। কুচকাওয়াজে মোট ৩০টি ট্যাবলো অংশ নেবে, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলোও থাকবে অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে। প্রায় আড়াই হাজার শিল্পী ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের লোকনৃত্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরবেন।
দর্শকদের জন্য বিশেষ তথ্য কুচকাওয়াজ শুরু হবে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে। দর্শকদের সুবিধার্থে সোমবার ভোর রাত ৩টে থেকেই দিল্লি মেট্রো পরিষেবা চালু থাকবে। নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে পুরো রাজধানী। ১০০০টিরও বেশি এআই (AI) চালিত সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।