‘বাঁচতে হলে লড়তে হয়, জুডো তার চেয়ে সহজ’, হাওড়ায় দাঁড়িয়ে জীবনযুদ্ধ শোনালেন বিশ্বজয়ী লিনথোই

দীর্ঘ ১৫ বছরের খরা কাটিয়ে ফের বাংলায় ফিরল জাতীয় স্তরের জুডো। শনিবার থেকে হাওড়ার ডুমুরজলা ইনডোর স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে জুনিয়র জাতীয় জুডো চ্যাম্পিয়নশিপ। আর এই মেগা টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠলেন ২০২২ বিশ্ব জুডো ক্যাডেটস চ্যাম্পিয়নশিপে সোনাজয়ী লিনথোই চানামবাম। ডুমুরজলায় দাঁড়িয়ে এই বিশ্বজয়ী কুস্তিগীর শোনালেন তাঁর উঠে আসার কঠিন লড়াইয়ের গল্প।
মণিপুরের এক প্রত্যন্ত গ্রামে অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে জন্ম লিনথোইয়ের। অভাবের সঙ্গে লড়াই ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। লিনথোইয়ের কথায়, “আমাদের মতো পরিবারে জন্ম নিলে প্রতিদিন বাঁচার জন্যই লড়াই করতে হয়। সেই তুলনায় জুডো ম্যাটের লড়াই অনেক সহজ। ১১ বছর বয়সে যখন প্রথম ম্যাটে নামি, তখন থেকেই বুঝেছিলাম জুডোই আমার জীবন বদলে দিতে পারে।” আজ বিশ্বজয়ী হওয়ার পর চারদিকের স্বীকৃতি ও সহযোগিতা পেয়ে তিনি আনন্দিত, তবে পা মাটিতেই রাখছেন এই তরুণী। তাঁর লক্ষ্য স্পষ্ট— দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার বদলে প্রতিদিন নিজেকে আগের দিনের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
অন্যদিকে, লিনথোইয়ের কারিগর তথা জর্জিয়ার প্রখ্যাত কোচ মামুকা কিজিলাশভিলি ভারতের জুডো নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। ২০১৭ সাল থেকে ভারতে থাকা এই কোচ বলেন, “জর্জিয়ার জনসংখ্যা মাত্র ৩০ লক্ষ, তারা যদি বিশ্বে শ্রেষ্ঠ হতে পারে, তবে ১৪৫ কোটির ভারত কেন পারবে না?” তিনি ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিক পর্যন্ত ভারতে থাকার কথা জানিয়েছেন এবং তাঁর লক্ষ্য ভারত ছাড়ার আগে একঝাঁক প্রতিভাবান জুডোকা তৈরি করা। ডুমুরজলার এই আসর থেকে আগামীর লিনথোইদের খুঁজে পাওয়াই এখন লক্ষ্য ভারতীয় জুডো মহলের।