‘অযথা তাড়াহুড়ো হচ্ছে’, বাংলায় ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে এবার সরব অমর্ত্য সেন!

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে এবার মুখ খুললেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। তাঁর সাফ দাবি, এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে করা হচ্ছে, যা সাধারণ ভোটারদের জন্য অন্যায্য এবং ভারতীয় গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে। বোস্টন থেকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে এই ধরনের সংশোধন প্রক্রিয়া চললে অনেক প্রকৃত নাগরিক ভোটাধিকার হারাতে পারেন।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অমর্ত্য সেনকেও এসআইআর শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। শান্তিনিকেতনে তাঁর ‘প্রতীচী’ বাড়িতে গিয়ে বিএলও সেই নোটিশ দিয়ে আসেন। কমিশনের তথ্যানুযায়ী, অমর্ত্য সেনের ফর্মে তাঁর মায়ের (অমিতা সেন) সঙ্গে তাঁর বয়সের পার্থক্য ১৫ বছর বা তার কম দেখানো হয়েছে, যাকে ‘যৌক্তিক অসামঞ্জস্য’ বা ‘Logical Discrepancy’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিশন। এই অভিজ্ঞতা থেকেই সরব হয়েছেন ৯২ বছর বয়সী অর্থনীতিবিদ।
অমর্ত্য সেন বলেন, “যাঁরা আগে ভোট দিয়েছেন এবং যাঁদের নাম-ঠিকানা সরকারি নথিতে রয়েছে, তাঁদের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। আমার ক্ষেত্রে আমার মৃত মায়ের বয়স নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, অথচ তাঁর তথ্যও কমিশনের কাছে থাকার কথা।” তিনি আরও যোগ করেন, গ্রামীণ ভারতে অনেকেরই জন্ম সার্টিফিকেট নেই। তিনি নিজে শান্তিনিকেতন গ্রামে জন্মেছিলেন এবং তাঁরও বার্থ সার্টিফিকেট নেই। তাঁর কথায়, “আমি বন্ধুদের সাহায্যে এই কঠিন প্রক্রিয়া পার করতে পেরেছি, কিন্তু যাঁদের কেউ নেই, তাঁদের কথা ভেবে আমি উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে দরিদ্র এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষেরা নথি জোগাড় করতে গিয়ে চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হতে পারেন।”
রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছিল, এই এসআইআর প্রক্রিয়ায় কি বিজেপি সুবিধা পাবে? এই প্রশ্নের উত্তরে অমর্ত্য সেন বলেন, “আমি নির্বাচন বিশেষজ্ঞ নই, তবে অনেকে বলছেন বিজেপি এর ফলে লাভবান হতে পারে। কে লাভবান হবে সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা হলো নির্বাচন কমিশনের কোনো ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া উচিত নয়।” তিনি নির্বাচন কমিশন ও সুপ্রিম কোর্টকে নিশ্চিত করতে অনুরোধ করেছেন যাতে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ভারতীয় নাগরিক ভোটদানের অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।