খুন নয়, আত্মহত্যাই করেছেন বেলডাঙার শ্রমিক! তৃণমূলের দাবি উড়িয়ে বড় তথ্য দিল পুলিশ

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যু নিয়ে চলা দীর্ঘ টানাপড়েন ও রাজনৈতিক চাপানউতোরের অবসান ঘটাল পুলিশ। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যে খুনের দাবি তোলা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়ে জেলা পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিল যে, ওই শ্রমিক আত্মঘাতী হয়েছেন। শনিবার পুলিশের পক্ষ থেকে পুরো তদন্ত প্রক্রিয়ার ভিডিও এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেশ করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনা হয়েছে।

গত ১৫ জানুয়ারি ঝাড়খণ্ডের বিশরামপুর এলাকায় ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় বেলডাঙার সুজাপুরের বাসিন্দা মহম্মদ আলাউদ্দিন শেখের দেহ। তিনি সেখানে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন। ঘটনার পর থেকেই তেতে ওঠে মুর্শিদাবাদ। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, আলাউদ্দিনকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেলডাঙার মহেশপুর এলাকায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ থেকে শুরু করে ট্রেন চলাচল পর্যন্ত ব্যাহত হয়েছিল। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বাক্যবাণে এই মৃত্যু ইস্যু রাজ্যের রাজনীতিতে বড় আকার ধারণ করে।

তবে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে আলাউদ্দিনের দেহে খুনের কোনও চিহ্ন মেলেনি। তাঁর শরীরে যে ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গিয়েছে, সেগুলি বেশ পুরনো। পুলিশ জানিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের বিশরামপুর থানার এএসআই-এর সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি ওই ঘরে থাকা অন্যান্য শ্রমিকদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা সেই ঘরের ফরেনসিক রিপোর্টও খতিয়ে দেখেছেন। পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিও পেশ করে পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে এটি একটি আত্মহত্যার ঘটনা।

অন্যদিকে, পুলিশের এই রিপোর্টের পর তৃণমূলের সুরে কিছুটা বদল লক্ষ্য করা গেছে। মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, “আমরা তদন্তকারী সংস্থা নই। পরিবারের অভিযোগ থাকতেই পারে। আমরা চেয়েছি সত্য সামনে আসুক।” তবে পুলিশের এই বয়ানের পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, সঠিক তদন্তের আগেই কেন খুনের তত্ত্ব খাড়া করে উত্তেজনা ছড়ানো হয়েছিল? আপাতত পুলিশের এই রিপোর্ট জনসমক্ষে আসায় এলাকার উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।