জেলবন্দি চিন্ময় প্রভুর বিরুদ্ধে খুনের মামলায় চার্জ গঠন! ‘ওকে মেরে ফেলা হতে পারে’, বিস্ফোরক তসলিমা

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হওয়া সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর বিরুদ্ধে আইনি ফাঁস আরও শক্ত করল মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। সোমবার চট্টগ্রামের একটি আদালত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় চিন্ময় প্রভুসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করেছে। এদিন অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রেখে, কালো ছাতা দিয়ে মুখ ঢেকে তাঁকে আদালতে পেশ করে পুলিশ।

আলিফ হত্যা মামলায় চিন্ময় প্রভুকে মূল অভিযুক্ত করা হলেও তাঁর আইনজীবীরা অকাট্য যুক্তি খাড়া করেছেন। তাঁদের দাবি, যখন আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে খুন করা হয়, তখন চিন্ময় প্রভু জেল কর্তৃপক্ষের হেফাজতে প্রিজন ভ্যানের ভেতরে ছিলেন। ফলে কোনোভাবেই এই হত্যাকাণ্ডে তাঁর সরাসরি যোগ থাকা সম্ভব নয়। এমনকি অন্য কোনো অভিযুক্তের জবানবন্দিতেও তাঁর নাম আসেনি। অভিযোগ উঠেছে, নিছক রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মেটাতে এবং সনাতনী আন্দোলনকে দমাতে তাঁকে এই মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

এই পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। ফেসবুকে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি ইউনূস সরকারের তীব্র সমালোচনা করে লেখেন, “আমার ভয় হয়, কখন একদিন শুনব চিন্ময় কৃষ্ণ দাস মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি তো মরবেন না, তাঁকে মেরে ফেলা হবে। পলিটিক্যাল মার্ডার তো বাংলাদেশের জেলগুলোয় অহরহই ঘটে।” তসলিমার মতে, নির্যাতিত হিন্দুদের পাশে দাঁড়ানোর কারণেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছে। রাষ্ট্রদ্রোহের পর এবার খুনের মামলা— একের পর এক আইনি বেড়াজালে চিন্ময় প্রভুর ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে।