রক্তাক্ত কোকরাঝাড়! গোষ্ঠী সংঘর্ষে মৃত ২, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসরে নামল সেনাবাহিনী!

ফের গোষ্ঠী সংঘর্ষের আগুনে জ্বলছে অসমের কোকরাঝাড়। বড়ো এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যেকার বিবাদ মঙ্গলবার ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় দ্রুত এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নামানো হয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)। গুজব ছড়ানো রুখতে কোকরাঝাড় ও পার্শ্ববর্তী চিরাং জেলায় সাময়িকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত অন্তত ২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত: সোমবার রাতে কারিগাঁও থানার কাছে গৌরীনাগর এলাকায় একটি পথ দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, সড়ক দুর্ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ জনতা একদল শ্রমিকের ওপর চড়াও হয় এবং গণপিটুনি দেয়। এই ঘটনায় ২৮ বছর বয়সী চিকনা জোহালুও বিসমিত নামে এক যুবকের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় সুনীল মুর্মু নামে আরও একজনের। ঘটনায় ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার ভয়াবহ রূপ: সোমবারের ঘটনার রেশ ধরে মঙ্গলবার সকালেই পরিস্থিতি চরম আকার নেয়। বিক্ষোভকারীরা কোকরাঝাড়ে বিরসা কমান্ডো ফোর্সের দুটি অস্থায়ী শিবিরে আগুন ধরিয়ে দেয়। সিদু কানহু ভবন সহ একাধিক সরকারি ও বেসরকারি ভবনে ভাঙচুর চালানো হয়। জাতীয় সড়ক অবরোধ করে টায়ারে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ দেখায় দু-পক্ষই। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়ে বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী কড়া পদক্ষেপ করবে। বর্তমানে পুরো এলাকা সেনার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।