ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা গেলেই কড়া অ্যাকশন! নবান্ন থেকে জেলাশাসকদের চরম হুঁশিয়ারি মমতার

সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, আর তার আগেই ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চড়ছে রাজনীতির পারদ। তালিকায় যাতে একজনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে এবার সরাসরি ময়দানে নামল নবান্ন। মঙ্গলবার জেলাশাসকদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বা তথ্যের অসঙ্গতি দূর করার বিষয়ে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন মেনেই হতে হবে এসআইআর (SIR) শুনানি।
এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জেলাশাসকদের সাফ জানান, “লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি”-র দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা চলবে না। অতীতে দেখা গিয়েছে, সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অনেকের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এবার সেই ভুল সংশোধনে জেলাশাসকদের ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ:
-
স্বচ্ছতা: যাঁদের নামে তথ্যের অমিল আছে, তাঁদের তালিকা গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক অফিস ও পুরসভার ওয়ার্ড অফিসে প্রকাশ্যে টাঙিয়ে দিতে হবে।
-
সহজ নথি জমা: নথিপত্র জমা দেওয়ার জন্য আলাদা কাউন্টার খুলতে হবে। নথি জমা নিলে প্রাপ্তিস্বীকার পত্র বা রসিদ (Acknowledgement Receipt) দেওয়া বাধ্যতামূলক।
-
মাধ্যমিকের অ্যাডমিট: বয়সের প্রমাণ হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে পূর্ণ মান্যতা দিতে হবে।
-
মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি: কেউ শারীরিক অসুস্থতার কারণে শুনানিতে আসতে না পারলে তাঁর নাম সরাসরি কাটা যাবে না। প্রয়োজনে তাঁর জন্য বিকল্প ব্যবস্থার ব্যবস্থা করতে হবে।
মুখ্যসচিব আরও নির্দেশ দিয়েছেন যে, ভোটার তালিকার কাজের পাশাপাশি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা কৃষক বন্ধুর মতো প্রকল্পের কাজ যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়। বিরোধীদের চাপ এবং কমিশনের কড়া নজরদারির মধ্যে কাজ করতে গিয়ে জেলাশাসকরা যাতে মনোবল না হারান, সেজন্য মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। নবান্নের এই কড়া অবস্থান স্পষ্ট করে দিল যে, নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরিই এখন প্রশাসনের পয়লা নম্বর অগ্রাধিকার।