তারেক রহমানের ‘ফিল্ডিং’ কি সেট? ভোটযুদ্ধের আগেই ঢাকা থেকে ভেসে এল ২ টি বড় সংকেত!

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কিন্তু ভোটগ্রহণের আগেই রাজনীতির পিচে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘ফিল্ডিং’ অনেকটা মজবুত হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ঢাকা থেকে আসা দুটি বিশেষ সংকেত এখন ঢাকার রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রথম সংকেতটি আসছে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা থেকে। অভিযোগ উঠেছে, কমিশন পরোক্ষভাবে তারেক রহমান ও তাঁর দলের অনুকূলে কাজ করছে। বিএনপি-র অন্তত দুই ডজন প্রার্থীর মনোনয়ন নিয়ে বিতর্ক থাকলেও কমিশন তাঁদের গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছে বলে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) নেতা নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, সংবিধান লঙ্ঘন করে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও অনেককে ভোট লড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। খোদ তারেক রহমানের বিরুদ্ধেই ব্রিটিশ নাগরিকত্বের অভিযোগ তুলে আইনি প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যদিও তিনি ঢাকা-১৭ সহ দুটি আসন থেকে লড়াই করছেন। এছাড়া ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়া নিয়েও কমিশনকে বিদ্ধ করছে অন্যান্য বিরোধী দলগুলো।

দ্বিতীয় সংকেতটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের। ২০ জানুয়ারি ২০২৬-এ ঢাকার গুলশানে তারেক রহমানের সঙ্গে একে একে দেখা করেছেন রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চিনের রাষ্ট্রদূতরা। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের তারেক রহমানের সঙ্গে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলের এই হঠাৎ সক্রিয়তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তাঁরা হয়তো তারেক রহমানকেই বাংলাদেশের আগামী দিনের সম্ভাব্য চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও সম্পর্কের উন্নতির একটা স্পষ্ট বার্তা পাওয়া গেছে, যা গত বছর খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের বিদেশমন্ত্রীর ঢাকা সফর থেকে পরিষ্কার হয়েছিল। সব মিলিয়ে ভোটযুদ্ধের আগেই তারেক রহমানের রাজনৈতিক অবস্থান যেন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেছে।