উকিল খরচ ৬৫ কোটি, অথচ ডিএ-তে টান! রাজ্য সরকারের বিপুল খরচ নিয়ে বিস্ফোরক আইনজীবী ও কর্মীরা

রাজ্য সরকারের কোষাগারে টান থাকলেও আইনজীবীদের পিছনে খরচ করতে কোনো কার্পণ্য নেই— তথ্যের অধিকার আইনে (RTI) সামনে আসা এক পরিসংখ্যান ঘিরে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। গত ৫ বছরে বিভিন্ন মামলা লড়তে আইনজীবীদের (Lawyers’ Fees) পিছনে রাজ্য সরকারের খরচ হয়েছে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা। এই তথ্য সামনে আসতেই এবার সরব হয়েছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠনের নেতা মলয় মুখোপাধ্যায় এবং প্রখ্যাত আইনজীবী ফিরদৌস শামিম।
ডিএ ইস্যুতে কড়া আক্রমণ: বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) মামলার প্রসঙ্গ টেনে আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলেন, “জনগণের করের টাকায় কর্মীদের ডিএ দেওয়া হচ্ছে না, অথচ সেই টাকা আইনজীবীদের ফি হিসেবে বিলানো হচ্ছে। কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের পর ডিএ মিটিয়ে দিলে জনগণের করের টাকা এভাবে নষ্ট হতো না।” তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৬ বার হারার পরেও সরকারের বোধোদয় হয়নি যে ডিএ কর্মীদের আইনসঙ্গত অধিকার।
আদালতে ‘নামী’ আইনজীবীদের মেলা: কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়ের দাবি, সরকার যে ৬৫ কোটির হিসেব দিয়েছে, বাস্তবে তা আরও অনেক বেশি। তিনি বলেন, “২০২৫ সালের মার্চ মাসে যখন সুপ্রিম কোর্টে তৃতীয় বেঞ্চে ডিএ মামলা শুরু হয়, সরকার বুঝে গিয়েছিল তারা হারবে। তাই অভিষেক মনু সিংভি থেকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো দামী আইনজীবীদের পাহারাদার হিসেবে রাখা হয়েছিল। অর্ডারে ১৬-১৮ জন আইনজীবীর নাম থাকত। এঁদের রেমুনারেশন কি সাধারণ মানুষ দিচ্ছে না?”
মলয়বাবু আরও অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে আইনজীবীরা স্রেফ এজলাসে ‘মুখ দেখিয়ে’ রেমুনারেশন সংগ্রহ করেছেন। তাঁর দাবি, হার নিশ্চিত জেনেও স্রেফ মামলা দীর্ঘায়িত করতে মানুষের করের টাকা এভাবে জলের মতো খরচ করা হচ্ছে। এই ৬৫ কোটির পরিসংখ্যান নিয়ে এখন রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।