টেসলা সাইবারট্রাক কেন আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, জেনেনিন কারণ?

পর্দায় হোক কিংবা বাস্তব জীবনে—সঞ্জয় দত্তের ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ স্টাইল সবসময়ই চর্চায় থাকে। সম্প্রতি মুম্বইয়ের ব্যস্ত রাস্তায় বলিউড এই সুপারস্টারকে এমন এক আজব চেহারার গাড়িতে দেখা গেছে, যা দেখে মনে হতে পারে কোনো কল্পবিজ্ঞানের সিনেমা থেকে সোজাসুজি রাস্তায় নেমে এসেছে। তীক্ষ্ণ কোণ আর রূপালি স্টিলের বডির এই অদ্ভুত দর্শন গাড়িটি আসলে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত ইলেকট্রিক যান—টেসলা সাইবারট্রাক। পাকিস্তানি সিরিয়াল ‘মেরি জিন্দেগি হ্যায় তু’-তে কামিয়ারের গাড়ি নিয়ে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল, সঞ্জয় দত্তের এই নতুন বাহন যেন তাকেও ছাড়িয়ে গেল।
আমেরিকান টেক জায়ান্ট টেসলার সিইও ইলন মাস্ক যখন ২০১৯ সালে প্রথম এই সাইবারট্রাক উন্মোচন করেন, তখন এর নকশা পুরো পৃথিবীকে অবাক করেছিল। এটি কোনো সাধারণ পিকআপ ট্রাক নয়; এর বডি তৈরি হয়েছে ‘আল্ট্রা-হার্ড ৩০এক্স কোল্ড-রোল্ড স্টেইনলেস স্টিল’ দিয়ে। কোম্পানি দাবি করে, এই গাড়িটি কেবল স্ক্র্যাচ বা মরিচা প্রতিরোধীই নয়, এটি এমনকি ছোটখাটো গুলির আঘাতও সহ্য করতে সক্ষম। এর সাঁজোয়া যানের মতো লুক এবং বি-পিলারে লুকানো বোতামের সাহায্যে দরজা খোলার প্রযুক্তি একে অন্য সব গাড়ির থেকে আলাদা করেছে।
প্রযুক্তির দিক থেকে সাইবারট্রাক যেন আগামীর এক বিস্ময়। এর ভেতরে রয়েছে বিশাল টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে এবং উন্নত অটোপাইলট সিস্টেম, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেন পরিবর্তন বা পার্কিং করতে পারে। ট্রাই-মোটর ভেরিয়েন্টটি মাত্র ২.৯ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ১০০ কিলোমিটার গতি তুলতে সক্ষম। একবার ফুল চার্জ দিলে ১২২.৪ কিলোওয়াট ঘণ্টার শক্তিশালী ব্যাটারিতে প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে এই গাড়ির দাম শুরু হয় ৬০,৯৯০ ডলার থেকে (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭৪ লাখ ৬৮ হাজার), আর অল-হুইল ড্রাইভ মডেলের বেস প্রাইস প্রায় ৭৯,৯৯০ ডলার। ভারতে সরাসরি টেসলার শোরুম না থাকলেও, আমদানিকৃত এই গাড়িটি এখন বিনোদন জগতের অন্যতম হট টপিক।