স্ত্রী মারা গেলে পুড়িয়ে মারা হত স্বামীকেও! সতীদাহ প্রথার ‘আজব’ ব্যাখ্যা দিয়ে নেটপাড়ায় চরম ট্রোলড অভিষেক

ইতিহাসের পাতায় এতদিন আমরা পড়ে এসেছি স্বামীর মৃত্যুর পর বিধবা স্ত্রীকে চিতায় তুলে দেওয়ার সেই নৃশংস ‘সতীদাহ’ প্রথার কথা। কিন্তু তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মেদিনীপুরের জনসভা থেকে যা শোনালেন, তাতে কার্যত স্তম্ভিত ইতিহাসবিদ থেকে সাধারণ মানুষ। তাঁর দাবি অনুযায়ী, রামমোহন রায় না থাকলে নাকি মায়ের মৃত্যুর পর বাবাকে চিতায় পুড়িয়ে মারা হত! সতীদাহ প্রথার এই উল্টো ব্যাখ্যা ঘিরে এখন তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া।

ঠিক কী বলেছেন অভিষেক? শুক্রবার মেদিনীপুর কলেজ মাঠের সভা থেকে বিজেপি ও সিপিএমকে আক্রমণ করতে গিয়ে মনীষীদের প্রসঙ্গ টানেন অভিষেক। রাজা রামমোহন রায়ের অবদান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “বিজেপির নেতারা রামমোহন রায়কে ব্রিটিশের দালাল বলেন। কিন্তু রামমোহন রায় যদি না থাকতেন, তাহলে আমার মা বা আপনার মায়ের মৃত্যুর পর সেই আগুনের চিতায় ঝলসে মৃত্যুবরণ করতে হত আপনার বা আমার বাবাকে।”

বিজেপির কড়া আক্রমণ অভিষেকের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই আক্রমণের সুযোগ হাতছাড়া করেনি গেরুয়া শিবির। বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি শঙ্কর গুছাইত কড়া ভাষায় বলেন, “ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা চলছে। অশিক্ষিত নেতার কাছ থেকে এর থেকে বেশি কিছু আশা করা যায় না।” নেটিজেনদের একাংশও এই মন্তব্য নিয়ে রসিকতা শুরু করেছেন। অনেকের প্রশ্ন, “সতীদাহ” প্রথায় যেখানে নারীরা দাহ হতেন, সেখানে অভিষেক কেন পুরুষদের প্রসঙ্গ টানলেন?

প্রকৃত ইতিহাস কী বলছে? ইতিহাস সাক্ষী, সতীদাহ প্রথা ছিল এক অত্যন্ত অমানবিক সামাজিক ব্যাধি, যেখানে মৃত স্বামীর চিতায় বিধবা স্ত্রীকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হত। রাজা রামমোহন রায়ের দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ১৮২৯ সালের ৪ ডিসেম্বর লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক আইন করে এই প্রথা নিষিদ্ধ করেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্ভবত বিজেপিকে আক্রমণ করার তাগিদে আবেগপ্রবণ হয়ে এই তথ্যগত ভুল করে ফেলেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

২০২৬-এর নির্বাচনের আগে মেদিনীপুরের মতো জায়গায় দাঁড়িয়ে এই ধরনের ‘তথ্যবিভ্রাট’ যে শাসকদলকে কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে ফেলল, তা বলাই বাহুল্য।