কুয়ো থেকে উঠেই নরখাদক রূপ! বুন্দিতে মহিলার ওপর ভাল্লুকের প্রাণঘাতী হামলা, হাত-পায়ে গভীর ক্ষত

রাজস্থানের বুন্দি জেলায় বন দপ্তরের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার মাশুল দিতে হলো এক নিরীহ মহিলাকে। একটি কুয়ো থেকে উদ্ধার করার ঠিক পরেই একটি ভাল্লুক মতিয়া বাই নামে এক মহিলার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ভাল্লুকের নখ ও দাঁতের আঘাতে ওই মহিলার হাত, পা এবং মুখ মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। বর্তমানে তিনি কোটার একটি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুন্দির ডাবি থানা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, রবিবার সকালে কেরুন্ডি গ্রামের কাছে একটি কুয়োয় একটি ভাল্লুক পড়ে থাকতে দেখেন গ্রামবাসীরা। খবর দেওয়া হয় বন দপ্তরে। অভিযোগ, বন কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কোনো প্রকার ঘুমপাড়ানি ইনজেকশন বা ট্র্যাঙ্কুইলাইজার ব্যবহার না করেই ক্রেনের সাহায্যে ভাল্লুকটিকে টেনে তোলেন। উদ্ধার করার পর ভাল্লুকটিকে সুরক্ষিতভাবে খাঁচাবন্দি করার পরিবর্তে খোলা জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঠিক সেই সময় মতিয়া বাই বনের পথ দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। ক্ষুধার্ত ও আতঙ্কিত বন্য পশুটি সামনে মতিয়াকে পেয়েই আক্রমণ চালায়।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বন বিভাগ যদি ন্যূনতম সতর্কতা অবলম্বন করত, তবে এই রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। মতিয়ার স্বামী কালুলা জানান, ভাল্লুকটি কুয়োয় পড়ার খবর সময়মতো দেওয়া হলেও বন দপ্তর দেরি করে পৌঁছায় এবং অত্যন্ত অপেশাদারভাবে উদ্ধারকার্য চালায়। গ্রামবাসীদের দাবি, দোষী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। যদিও পুলিশে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, তবে বন দপ্তরের এসিএফ নীতিন সাইনি স্বীকার করেছেন যে উদ্ধারের পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এলাকায় বর্তমানে বন কর্মীরা টহল দিলেও বাসিন্দাদের মধ্যে বাঘ ও ভাল্লুক আতঙ্ক চরমে পৌঁছেছে।