বিশ্বের প্রথম ‘AI’ এয়ারলাইন এখন হাতের নাগালে, জেনেনিন কি মিলবে সুবিধে?

বিমান চলাচল খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর প্রভাব এখন আর কোনো গোপন বিষয় নয়। তবে পুরোনো এয়ারলাইনগুলোর জন্য তাদের মান্ধাতা আমলের ব্যবস্থায় এই নতুন প্রযুক্তি যোগ করা বেশ সময়সাপেক্ষ। ঠিক এখানেই ব্যতিক্রমী হয়ে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে সৌদি আরবের নতুন বিমান সংস্থা ‘রিয়াদ এয়ার’। নিজেদের বিশ্বের প্রথম ‘এআই-নেটিভ’ এয়ারলাইন হিসেবে দাবি করছে তারা, যার অর্থ—প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই এর রন্ধ্রে রন্ধ্রে গেঁথে দেওয়া হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

২০২৩ সালে সৌদি আরবের ‘পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’-এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত এই এয়ারলাইনটি ২০২৬ সালের শুরুতেই বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে। প্রযুক্তি জায়ান্ট আইবিএম-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে রিয়াদ এয়ার এমন এক স্মার্ট ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তৈরি করছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। গ্রাহক সেবা থেকে শুরু করে বিমানের রুট নির্ধারণ—সবখানেই থাকবে এআই-এর ছোঁয়া। যাত্রীদের তাৎক্ষণিক সহায়তায় থাকবে এআই ভয়েস বট এবং কর্মীদের জন্য থাকবে ‘পার্সোনালাইজড ডিজিটাল ওয়ার্কপ্লেস’, যেখানে এইচআর সংক্রান্ত সব কাজ সারবে এআই এজেন্ট।

বিমানবন্দরের ভেতরেও রিয়াদ এয়ারের কর্মীরা এআই-এর পরামর্শ মেনে চলবেন। ধরুন, কোনো যাত্রী বিমানবন্দরে আসতে দেরি করে ফেলেছেন; এআই সিস্টেম মুহূর্তের মধ্যে কর্মীকে সংকেত দেবে যাতে তিনি ওই যাত্রীকে দ্রুত বোর্ডিং গেটে পৌঁছাতে বিশেষ যাতায়াত সেবা দেন। শুধু সেবা নয়, ব্যবসায়িক কৌশলেও রিয়াদ এয়ার এআই-কে মূল চালিকাশক্তি করেছে। কোন রুটে ফ্লাইট চালানো সবচেয়ে লাভজনক হবে এবং কীভাবে জ্বালানি সাশ্রয় করা যাবে, তা নির্ধারণ করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এর ফলে পরিচালনা ব্যয় কমবে, যার সরাসরি সুবিধা পাবেন যাত্রীরা সস্তা টিকিটের মাধ্যমে।

রিয়াদ এয়ারের চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার অ্যাডাম বুকাডিডা বলেন, “রিয়াদ এয়ার ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই তৈরি হয়েছে, যা বিশ্বের অন্যান্য এয়ারলাইনসের জন্য নতুন পথ তৈরি করবে।” তবে এই ‘এআই-ফার্স্ট’ মডেলের মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। আইবিএম নিজেই ২০২৫ সালের শুরুতে আট হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে এআই শেষ পর্যন্ত ৩০ শতাংশ কর্মীর জায়গা দখল করে নেবে। ফলে রিয়াদ এয়ারের এই আধুনিক যাত্রা যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জও বটে।