মুখ্যমন্ত্রীর সফরের মাঝেই জলপাইগুড়িতে তৃণমূলের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল! ১৫০ পরিবারের পদ্ম-শিবিরে যোগদান

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরবঙ্গ সফরের মধ্যেই বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস। ধূপগুড়ি মহকুমার বিন্নাগুড়িতে প্রবীণ নেতা উমেশ যাদবের নেতৃত্বে একযোগে ১৫০টিরও বেশি পরিবার ঘাসফুল শিবির ছেড়ে পদ্ম-শিবিরে নাম লেখাল। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ঘটনা জলপাইগুড়ির রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় ওলটপালট ঘটিয়ে দিয়েছে।

শক্তি প্রদর্শনে বিজেপি শনিবার সন্ধ্যায় বিন্নাগুড়িতে বিজেপির নতুন দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন উপলক্ষে এক বিশাল সভার আয়োজন করা হয়। আলিপুরদুয়ার জেলা সভাধিপতি মিঠু দাসের উপস্থিতিতে কয়েকশো কর্মীর উপস্থিতিতে এই যোগদান কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। উমেশ যাদবের পাশাপাশি পাপ্পু শর্মার মতো স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারাও এদিন গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নেন। উল্লেখ্য, উমেশ যাদব একসময় বিজেপি করতেন, পরে তৃণমূলে যোগ দিলেও ফের ‘ঘরওয়াপাসি’ করলেন তিনি।

পাল্টা কৌশল তৃণমূলের মুখ্যমন্ত্রীর সফরের মধ্যে এই ভাঙন অস্বস্তিতে ফেলেছে শাসকদলকে। তবে তৃণমূলের জেলা সভাপতি রাজেশকুমার সিং পরিস্থিতি সামাল দিতে বলেন, “নির্বাচনের আগে এমন খেলা চলে। তৃণমূল একটা বড় পরিবার, পদের লোভে কেউ কেউ দলত্যাগ করেন। উমেশ ভাল নেতা ছিলেন, আমরা চেষ্টা করছি ওকে আবার ফিরিয়ে আনার।”

বিজেপির পাল্টা হুঙ্কার বিজেপি নেত্রী মিঠু দাস সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “বিন্নাগুড়ির এই ছবিই বলে দিচ্ছে তৃণমূলের বিসর্জন নিশ্চিত। মানুষ এখন দুর্নীতির বদলে উন্নয়নের সরকার চাইছে।” অন্যদিকে, দলত্যাগী নেতা উমেশ যাদবের দাবি, তিনি চান ২০২৬-এ বাংলায় বিজেপির সরকার আসুক।

জলপাইগুড়ির এই গণ-দলবদল যে শুধু স্থানীয় স্তরে নয়, বরং রাজ্য রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলবে, তা রাজনৈতিক মহলের ধারণা।