“সিঙ্গুরে মোদীর ভাষণ আসলে মিথ্যার জমিদারি!” কুণাল ঘোষের আক্রমণাত্মক পাল্টায় তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘সোনার বাংলা’ গড়ার ডাককে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রীর রবিবাসরীয় সভাকে ‘মিথ্যার জমিদারি’ বলে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। একইসঙ্গে সিঙ্গুরে টাটাদের কারখানা বা ভারী শিল্প নিয়ে মোদীর নীরবতাকে হাতিয়ার করে ময়দানে নেমেছে বাম ও কংগ্রেসও।

“বলছে ঝুট, করছে লুট” এক ভিডিও বার্তায় কুণাল ঘোষ বলেন, “সিঙ্গুরে আজ প্রধানমন্ত্রী যা বলে গেলেন, তা কেবলই মিথ্যার জমিদারি। ‘বলছে ঝুট, করছে লুট’—বিজেপির এই নীতিরই প্রতিফলন দেখা গেল।” তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ ভাষণ দিলেও সিঙ্গুরের মানুষের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেননি প্রধানমন্ত্রী। সিঙ্গুর আন্দোলনের প্রেক্ষাপট মনে করিয়ে দিয়ে কুণাল জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই ছিল কৃষিজমির অধিকার রক্ষার, আর শিল্প অবশ্যই হবে তবে তা উর্বর জমি কেড়ে নিয়ে নয়।

ক্রেডিট যুদ্ধ ও ইউনেস্কো প্রসঙ্গ দুর্গাপুজোর ইউনেস্কো স্বীকৃতির কৃতিত্ব মোদী নিজের দিকে টানার চেষ্টা করায় পাল্টা সরব হয়েছে তৃণমূল। কুণাল ঘোষের দাবি, যাবতীয় নথিপত্র তৈরি থেকে উপস্থাপন—সবই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্য সরকার করেছে। এর পূর্ণ কৃতিত্ব কেবল বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর।

বাম-কংগ্রেসের সাঁড়াশি আক্রমণ শুধু তৃণমূল নয়, প্রধানমন্ত্রীর সভাকে ঘিরে সরব হয়েছে বামেরাও। সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্ত প্রশ্ন তুলেছেন, “বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা কেন খুন হচ্ছেন? মণিপুরের জ্বলন্ত পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কী বললেন?” অন্যদিকে, সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের পার্থ ঘোষ মনে করিয়ে দেন, নির্বাচনের আগে ডানলপ কারখানায় গিয়েও মোদী কোনো পরিবর্তন আনতে পারেননি, সিঙ্গুরেও তার ব্যতিক্রম হবে না।

বেকারত্ব নিয়ে কংগ্রেসের বিক্ষোভ এদিন কলকাতায় প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে প্রধানমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়। কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, গত ৪৫ বছরে দেশে রেকর্ড বেকারত্ব মোদীর আমলেই হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার সরকারি সংস্থান বেসরকারীকরণ করে যুবকদের কর্মসংস্থানের পথ বন্ধ করে দিচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মোদীর সিঙ্গুর সফরকে ঘিরে যেভাবে রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলো একযোগে সুর চড়ালো, তাতে বঙ্গ রাজনীতির পারদ যে কয়েক গুণ বেড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।