“আমি মুসলিম, জিমার ইহুদি আর রামায়ণ হিন্দু”—ধর্মীয় বিভেদ ভুলে সম্প্রীতির সুর এ আর রহমানের!

নীতেশ তিওয়ারির বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘রামায়ণ’ নিয়ে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। একদিকে রামের চরিত্রে রণবীর কাপুর আর সীতার ভূমিকায় সাই পল্লবীকে দেখার অপেক্ষা, অন্যদিকে ছবির মিউজিক নিয়ে তৈরি হয়েছে বিশ্বমানের এক মেলবন্ধন। অস্কারজয়ী ভারতীয় সঙ্গীত পরিচালক এ আর রহমান এই ছবির জন্য হাত মিলিয়েছেন কিংবদন্তি জার্মান কম্পোজার হান্স জিমারের সাথে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ধর্ম এবং হিন্দু পুরাণ নিয়ে কাজ করা প্রসঙ্গে অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন রহমান।
ব্রাহ্মণ স্কুলের শিক্ষা ও রামায়ণ: সাক্ষাৎকারে রহমান জানান, তাঁর শৈশব ও শিক্ষার ভিত ছিল একটি নামী ব্রাহ্মণ স্কুল। সেখানে প্রতি বছর রামায়ণ ও মহাভারত পড়ানো হতো। তিনি বলেন, “আমি ব্রাহ্মণ স্কুলে পড়েছি, তাই এই মহাকাব্যের গল্প আমার খুব ভালো করে জানা। রামায়ণের গল্প আসলে একজন আদর্শ মানুষ, তাঁর চরিত্র এবং উচ্চ আদর্শ ও মূল্যবোধের কাহিনী। মানুষ বিতর্ক করতে পারে, কিন্তু আমি সেই সব ভালো দিককেই গুরুত্ব দিই যা থেকে কিছু শেখা যায়।”
ধর্মের ঊর্ধ্বে শিল্পের স্থান: নিজের মুসলিম পরিচয় এবং হিন্দু পুরাণ ভিত্তিক কাজে অংশগ্রহণ নিয়ে রহমান বলেন, “আমি মনে করি আমাদের সংকীর্ণ চিন্তা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে ওঠা উচিত। হান্স জিমার ইহুদি, আমি মুসলমান আর রামায়ণ হিন্দু—এই কাজ ভারত থেকে ভালোবাসার বার্তা নিয়ে গোটা বিশ্বের কাছে পৌঁছাবে।” রহমানের মতে, যখন মানুষ সংকীর্ণতা ত্যাগ করে বড় ভাবনা চিন্তা করে, তখনই প্রকৃত উৎকর্ষতা ফুটে ওঠে।
জ্ঞানের কোনো সীমানা নেই: জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে রহমান বলেন, “নবীও বলেছেন জ্ঞান অত্যন্ত মূল্যবান। সেটা আপনি কার কাছ থেকে শিখছেন—তা সে কোনো ভিখারি হোক, রাজা হোক বা অন্য কোনো ধর্মাবলম্বী—সেটা বড় কথা নয়। জ্ঞান অমূল্য সম্পদ এবং আমাদের উচিত সব জায়গা থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করা।” উল্লেখ্য, ‘রামায়ণ’ ছবিতে রাবণের চরিত্রে দেখা যাবে কন্নড় সুপারস্টার যশকে এবং হনুমানের চরিত্রে রয়েছেন সানি দেওল।