ব্যাঙ্ক লকার থেকেও উধাও দেড় কোটির গয়না! SBI-এর ঘটনায় তোলপাড়, তদন্তে নামতেই পুলিশের হাতে নতুন তথ্য

ব্যাঙ্কের লকারে গয়না রাখা কি এখন সবচেয়ে বড় ঝুঁকি? লখনউয়ের স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (SBI) কপূরথলা শাখায় ঘটে যাওয়া এক ঘটনা এই প্রশ্নই তুলে দিল। লকার থেকে প্রায় ১.৫ কোটি টাকার সোনার গয়না নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে পুলিশি তদন্ত শুরু হতেই বেরিয়ে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য।
কী ঘটেছিল?
অভিযোগকারিনী ববিতা সিনহা আলিগঞ্জ থানায় একটি FIR দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি, লকারে প্রায় দেড় কোটি টাকার গয়না রাখা ছিল। সম্প্রতি লকার চেক করতে গিয়ে তিনি দেখেন, সেটি সম্পূর্ণ খালি! তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পর এই চুরির ঘটনায় তিনি ব্যাঙ্ক কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
তদন্তে পুলিশের হাতে নতুন ক্লু
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ এমন কিছু তথ্য পেয়েছে যা এই চুরির ঘটনাকে নতুন মোড় দিচ্ছে:
-
স্বর্ণ ঋণের যোগ: ববিতার স্বামী, প্রয়াত ব্যবসায়ী রাজেশ সিনহা একটি গোল্ড লোন (Gold Loan) নিয়েছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।
-
CIBIL রেকর্ড: রাজেশের সিবিল রেকর্ড খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পেরেছে, তাঁর নামে গোল্ড লোনের লেনদেনের তথ্য রয়েছে।
-
টেম্পারিং নেই: আশ্চর্যের বিষয় হলো, লকারটি বাইরে থেকে ভাঙা বা কোনো রকম টেম্পারিং করার চিহ্ন পায়নি পুলিশ।
রহস্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ‘গোল্ড লোন’
পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে যে, রাজেশ সিনহা কি তাঁর স্ত্রীর অজান্তেই ওই গয়নাগুলি জামানত হিসেবে রেখে ঋণ নিয়েছিলেন? অন্যদিকে ববিতা সিনহা সাফ জানিয়েছেন, তাঁর স্বামীর কোনো ঋণ নেওয়ার কথা তাঁর জানা নেই। শেষবার যখন তিনি লকার দেখেছিলেন, তখন সবকিছু ঠিকই ছিল।
নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন
লখনউতে ব্যাঙ্ক লকার থেকে গয়না নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে ব্যাঙ্ক অফ বরোদার একটি শাখা থেকেও প্রায় ১ কোটি টাকার গয়না উধাও হওয়ার খবর এসেছিল। বারবার কেন এমন হচ্ছে? ব্যাঙ্কের সুরক্ষা বলয় কি তবে এতটাই দুর্বল?