নিহত পাইলটের আত্মীয়কে কেন তলব? আহমেদাবাদ বিমান বিভ্রাটে বড় মোড়, কাঠগড়ায় তদন্তকারী সংস্থা

আহমেদাবাদে গত বছরের ভয়াবহ এয়ার ইন্ডিয়া বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে এবার সরাসরি সংঘাতে জড়াল ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান পাইলটস (FIP) এবং বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (AAIB)। ঘটনার সাথে কোনো সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও একজন বাণিজ্যিক পাইলটকে তদন্তে তলব করার অভিযোগে AAIB-কে একটি কড়া আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে পাইলটদের এই সংগঠন। ফেডারেশনের অভিযোগ, তদন্তকারী সংস্থা তাদের এখতিয়ার লঙ্ঘন করে ক্যাপ্টেন বরুণ আনন্দ নামে এক পাইলটকে অকারণে হয়রানি করছে।

তদন্তের নামে কি স্বজনদের হেনস্থা? ক্যাপ্টেন বরুণ আনন্দ ওই দুর্ঘটনায় নিহত পাইলট ক্যাপ্টেন সুমিত সাভারওয়ালের ভাগ্নে। তিনি নিজে এয়ার ইন্ডিয়ার একজন ন্যারো-বডি এয়ারক্রাফট পাইলট। এফআইপি-র দাবি, ক্যাপ্টেন আনন্দের এই দুর্ঘটনার সাথে কোনো পেশাগত বা প্রযুক্তিগত সম্পর্ক ছিল না। তা সত্ত্বেও তাঁকে কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি কারণ ছাড়াই তলব করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, “ক্যাপ্টেন আনন্দ দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং উড্ডয়ন পরিকল্পনা বা রক্ষণাবেক্ষণের সাথেও তাঁর কোনো যোগসূত্র ছিল না। শোকাতুর পরিবারের সদস্যদের এভাবে তলব করা তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।”

আইনি জটিলতা ও সুপ্রিম কোর্ট: ফেডারেশন অভিযোগ করেছে যে, আইসিএও (ICAO) অ্যানেক্স ১৩ এবং ভারতীয় বিমান বিধির তোয়াক্কা না করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এই তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছেন নিহত ক্যাপ্টেন সুমিত সাভারওয়ালের বাবা। এফআইপি-র মতে, শোকগ্রস্ত পরিবারকে এভাবে হয়রানি করা কেবল পেশাদার মর্যাদাহানি নয়, বরং মানসিক যন্ত্রণার শামিল।

ফিরে দেখা সেই অভিশপ্ত দিন: গত ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে লন্ডন গ্যাটউইকের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার AI-171 ফ্লাইটটি ওড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়। একটি মেডিকেল হোস্টেল কমপ্লেক্সের ওপর ভেঙে পড়া সেই দুর্ঘটনায় ২৬০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। মাত্র একজন যাত্রী অলৌকিকভাবে বেঁচে যান।