স্ত্রীকে না জানিয়ে সম্পত্তি হস্তান্তর? স্বামীর স্থাবর সম্পত্তি থেকেও টাকা আদায়ের অধিকার বহাল রাখল আদালত

হিন্দু বিবাহিত মহিলাদের ভরণপোষণের অধিকার নিয়ে এক যুগান্তকারী রায় দিল কেরালা হাইকোর্ট। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, স্বামী যদি তাঁর স্থাবর সম্পত্তি অন্য কাউকে হস্তান্তর বা বিক্রিও করে দেন, তবুও স্ত্রী সেই সম্পত্তি থেকে ভরণপোষণ দাবি করতে পারবেন। বিচারপতি সুশ্রুত অরবিন্দ ধর্মাধিকারী, পিভি কুনহিকৃষ্ণন এবং জি গিরিশের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ‘সুলোচনা বনাম অনিতা’ মামলায় এই রায় দিয়েছেন।

কখন প্রযোজ্য হবে এই অধিকার? আদালতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৩৯ ধারা এবং ১৯৫৬ সালের হিন্দু দত্তক ও ভরণপোষণ আইনের ২৮ ধারা অনুযায়ী স্ত্রীর এই অধিকার সুরক্ষিত। যদি দেখা যায় যে, সম্পত্তি বিক্রির সময় ক্রেতা জানতেন যে বিক্রেতা (স্বামী) তাঁর স্ত্রীকে ভরণপোষণ দিতে অস্বীকার করছেন, তবে স্ত্রী ওই সম্পত্তির নতুন ক্রেতার বিরুদ্ধেও দাবি জানাতে পারবেন। আর যদি সম্পত্তিটি কাউকে ‘উপহার’ হিসেবে দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে কোনো নোটিশ ছাড়াই স্ত্রীর অধিকার সরাসরি বলবৎ হবে।

কেন এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত? একটি মামলার প্রেক্ষিতে দেখা গিয়েছিল যে, জনৈক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীকে ত্যাগ করে ৫ একর জমি বিক্রি করে দেন। পারিবারিক আদালত স্ত্রীর পক্ষে রায় দিলেও ক্রেতা হাইকোর্টে যুক্তি দেন যে, ১৯৫৬ সালের আইনে সম্পত্তির বিরুদ্ধে ভরণপোষণের কোনো স্পষ্ট বিধান নেই। কিন্তু কেরালা হাইকোর্ট এই যুক্তি খারিজ করে দিয়ে জানায়, একজন নিঃস্ব মহিলাকে তাঁর স্বামীর সম্পত্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ না দেওয়া হবে “ন্যায়বিচারের নামে প্রহসন”। আদালত জোর দিয়ে বলেছে, স্বামীর ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা যেমন আছে, তেমনই তাঁর সম্পত্তির ওপরেও স্ত্রীর অধিকার বিস্তৃত।