“মানুষের পর এবার কি দেবতাদেরও ঠকানোর পালা?” মন্দির উদ্বোধন নিয়ে বিস্ফোরক শিলিগুড়ির বিধায়ক

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ ততই চড়ছে। এবার সরাসরি ধর্মীয় আবেগ ও সরকারি কোষাগারের ব্যবহার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। দিঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে পাহাড়ের মহাকাল মন্দির— এই বিপুল কর্মযজ্ঞের নেপথ্যে জনসেবা নয়, বরং ‘ভোটের বৈতরণী’ পার হওয়ার চক্রান্ত দেখছেন তিনি।

মন্দির নিয়ে রাজনীতির অভিযোগ: শঙ্কর ঘোষের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পর নির্বাচনের ঠিক আগেই কেন মন্দির তৈরির এত তোড়জোড়? তাঁর দাবি, গত কয়েক বছরে সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে ঠকানোর পর এবার হার নিশ্চিত জেনে হিন্দু ভোটব্যাঙ্ক গোছাতে দেবতাদের নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছে তৃণমূল সরকার। সরকারি কোষাগারের টাকা এভাবে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন।

ইডি-র ফোন কাণ্ড ও সুপ্রিম কোর্ট: শুধু মন্দির নয়, সুপ্রিম কোর্টে ইডি আধিকারিকের ফোন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা সাম্প্রতিক অভিযোগগুলিকেও হাতিয়ার করেছেন শঙ্কর ঘোষ। তাঁর প্রশ্ন, তদন্তের মুখে দাঁড়িয়ে কেন বারবার সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে?

২০২৬-এর হারের আতঙ্ক: বিধায়কের স্পষ্ট বার্তা, ২০২৬-এর নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই মুখ্যমন্ত্রী এখন মন্দিরের দ্বারস্থ হচ্ছেন। মানুষের আস্থা হারিয়ে এখন সরকারি টাকায় মন্দির উদ্বোধন করে ইমেজ সংশোধনের চেষ্টা চলছে। শিলিগুড়ির মাটি থেকে দেওয়া তাঁর এই কড়া বার্তা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে।