করোনার মতোই কি দ্রুত ছড়াবে নিপা, জেনেনিন ভ্যাকসিন আসবে কবে?

করোনার স্মৃতি এখনও টাটকা। তার মধ্যেই বাংলার মানুষের নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিপা ভাইরাস (Nipah Virus)। ইতিমধেই রাজ্যের দুই নার্স আক্রান্ত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। পাশাপাশি আরও এক নার্সকে নিপা সন্দেহে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রায় ১২০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোয় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। প্রশ্ন উঠছে, নিপা কি তবে করোনার মতোই মহামারি আকার নেবে?
এই বিষয়ে বিশদে ব্যাখ্যা দিয়েছেন কৃষ্ণনগর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন প্রিন্সিপ্যাল তথা বিশিষ্ট প্যাথোলজিস্ট ডাঃ প্রণবকুমার ভট্টাচার্য।
🧬 করোনা ও নিপা: মিল কোথায়?
ডাঃ ভট্টাচার্য জানান, করোনার মতো নিপাও একটি RNA ভাইরাস। এমনকি চরিত্রগত দিক থেকে এই দুটি ভাইরাস একই গোত্রের বা একই পরিবারের সদস্য। তবে মিল এইটুকুই, সংক্রমণ ছড়ানোর পদ্ধতিতে রয়েছে বিস্তর ফারাক।
🦇 সংক্রমণ ছড়ায় কীভাবে?
-
করোনা: মূলত শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে (হাঁচি-কাশি) বায়ুবাহিত হয়ে দ্রুত ছড়াত।
-
নিপা: এটি মূলত বাদুড়ের মল, মূত্র বা দেহরস থেকে ছড়ায়। বাদুড়ে কামড়ানো ফল বা কাঁচা খেজুরের রস খেলে এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে। এছাড়া শূকরের সংস্পর্শে এলেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।
-
মানুষ থেকে মানুষ: আক্রান্ত ব্যক্তির লালা বা দেহরসের মাধ্যমে এটি অন্য মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে। তবে করোনা যতটা দ্রুত সংক্রামক ছিল, নিপা ঠিক ততটা নয়।
⚠️ মৃত্যুহার আতঙ্ক: করোনার চেয়েও ভয়াবহ!
চিকিৎসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিপা ভাইরাসের মারণ ক্ষমতা করোনার চেয়ে বহুগুণ বেশি।
-
করোনার মৃত্যুহার: মাত্র ২ শতাংশের কাছাকাছি ছিল।
-
নিপার মৃত্যুহার: এলাকাভেদে ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
ডাঃ ভট্টাচার্য আশ্বস্ত করে বলেন, “যেহেতু নিপায় মৃত্যুহার খুব বেশি, তাই এটি করোনার মতো কোটি কোটি মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারবে না। কারণ মানুষ মারা গেলে তার শরীরের সঙ্গে ভাইরাসটিও মারা যায়, ফলে সংক্রমণের শৃঙ্খল ভেঙে যায়।”
💉 ওষুধ বা টিকা কি আছে?
দুর্ভাগ্যবশত, নিপা ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনও ওষুধ বা অ্যান্টি-ভাইরাল এখনও নেই। চিকিৎসকরা কেবল লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা (Symptomatic Treatment) করে থাকেন। ব্রিটেনে এই ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চললেও তা এখনও ট্রায়াল পর্যায়ে রয়েছে। অর্থাৎ অদূর ভবিষ্যতে ভ্যাকসিন পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
সতর্কবার্তা: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। আতঙ্কিত না হয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন। ফল ধুয়ে খান এবং কোনও উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।