হরপ্পা-মহেঞ্জোদাড়োর চেয়েও প্রাচীন? ওডিশার পাহাড়ে ১০ হাজার বছরের পুরনো সভ্যতার হদিস!

ভারতের প্রাচীনতম সভ্যতা বলতেই আমাদের মাথায় আসে সিন্ধু নদ সংলগ্ন হরপ্পা ও মহেঞ্জোদাড়োর কথা। কিন্তু এবার সেই ইতিহাসকেও চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে ওডিশার সম্বলপুর জেলা। স্থানীয়দের বিশ্বাস ছিল, সম্বলপুরের ভীমমণ্ডলী পাহাড়ের গুহাগুলির সঙ্গে মহাভারতের যুগের যোগ রয়েছে। কিন্তু আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার (ASI) সাম্প্রতিক আবিষ্কারে চক্ষু চড়কগাছ বিশেষজ্ঞদের।
গবেষকদের মতে, ওই গুহা চত্বরের নীচে চাপা পড়ে আছে অন্তত ১০ হাজার বছরের পুরনো অর্থাৎ নব্যপ্রস্তর যুগের সমসাময়িক সভ্যতার অমূল্য সম্পদ।
🎨 গুহার দেওয়ালে প্রাগৈতিহাসিক ক্যানভাস
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, এলাকায় প্রায় ৪৫টিরও বেশি এমন পাথুরে গুহা (রক শেল্টার) রয়েছে। যার দেওয়ালে আদিম মানুষের হাতের শিল্পকর্ম আজও অমলিন। আয়রন অক্সাইড আর গাছের ছালের রস মিশিয়ে তৈরি করা প্রাকৃতিক রঙে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে দৈনন্দিন জীবন আর জঙ্গলের ছবি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনোদন ছাড়াও নিজেদের অস্তিত্বের প্রমাণ রাখতেই এই ছবিগুলি এঁকেছিলেন সেই সময়ের আদিবাসীরা।
⛏️ খননকার্যে কী কী পাওয়া গেল?
খননস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক ঐতিহাসিক হাতিয়ার ও সরঞ্জাম:
-
চামড়ার কাজের জন্য ব্যবহৃত পাথরের ব্লেড ও সূচ।
-
মাংস থেকে চামড়া ছাড়ানোর জন্য বিশেষ ধরনের স্ক্র্যাপার।
-
পাথরের তীর, ছুরি এবং বর্শার ভাঙা টুকরো।
⏳ দিনে এগোচ্ছে মাত্র ১ সেন্টিমিটার!
এএসআই-এর সুপারিনটেন্ডিং আর্কিওলজিস্ট ডিবি গডনায়ক জানিয়েছেন, মাটির নীচে থাকা প্রাচীন নিদর্শনগুলি এতটাই সূক্ষ্ম যে কোনও ভারী যন্ত্র ব্যবহার করা যাচ্ছে না। পুরো খননকাজ করা হচ্ছে হাত দিয়ে। ফলে কাজের গতি অত্যন্ত ধীর— দিনে মাত্র ১ সেন্টিমিটার করে খনন করা হচ্ছে। সংগৃহীত নমুনাগুলির প্রাচীনত্ব নির্ভুলভাবে জানতে শুরু হয়েছে কার্বন ডেটিং প্রক্রিয়া।
📜 ন্যাশনাল হেরিটেজ ঘোষণার দাবি
ইতিমধ্যেই গঙ্গাধর মেহের বিশ্ববিদ্যালয় এবং ‘ইনট্যাক’ (INTACH) এই আবিষ্কারের গুরুত্ব স্বীকার করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই এলাকাটিকে ‘ন্যাশনাল হেরিটেজ মনুমেন্ট’ হিসেবে ঘোষণার দাবি তুলেছেন। যদি কার্বন ডেটিং-এর রিপোর্টে ১০ হাজার বছরের প্রাচীনত্ব প্রমাণিত হয়, তবে ভারতের প্রাগৈতিহাসিক মানচিত্রে ওডিশা এক নয়া নজির সৃষ্টি করবে।