অমাবস্যায় নয়, রটন্তী কালী পুজো হয় চতুর্দশী তিথিতে! জেনেনিন কবে পড়েছে?

হিন্দু ধর্মে মহাশক্তির আরাধনায় মাঘ মাসের এই তিথি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীতে পালিত হয় রটন্তী কালী পুজো। প্রচলিত বিশ্বাস, এই বিশেষ তিথিতে নিষ্ঠাভরে মায়ের আরাধনা করলে ভক্তের সমস্ত মনস্কামনা পূর্ণ হয়। সারা বছর অমাবস্যায় পুজো হলেও, রটন্তী কালী পুজোর বিশেষত্ব হলো এটি চতুর্দশী তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়।

🗓️ ২০২৬ সালে রটন্তী কালী পুজো কবে?

এবছর ১৮ জানুয়ারি (৪ মাঘ), রবিবার রটন্তী কালী পুজো উদযাপিত হবে।

তিথি সময়সূচী:

  • চতুর্দশী তিথি শুরু: ১৭ জানুয়ারি, শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ১৪ মিনিট থেকে।

  • তিথি সমাপ্তি: ১৮ জানুয়ারি, রবিবার রাত ১টা ৩০ মিনিটে।

✨ দক্ষিণেশ্বর ও শ্রীরামকৃষ্ণের সেই অলৌকিক দর্শন

দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে বছরের যে তিনটি কালী পুজো সবচেয়ে বড় করে হয়, তার মধ্যে রটন্তী কালী পুজো অন্যতম। কথিত আছে, শ্রীরামকৃষ্ণদেব একবার বলেছিলেন, এই পুজোর ভোরে স্বর্গের দেবতারা স্বয়ং দক্ষিণেশ্বরের গঙ্গায় পুণ্যস্নান করতে নামেন। সেই বিশ্বাস থেকেই আজও রটন্তীর ভোরে হাজার হাজার পুণ্যার্থী দক্ষিণেশ্বর ঘাটে ভিড় জমান। এদিন মা ভবতারিণীকে সাজানো হয় অপূর্ব বিশেষ সাজে।

🔱 রটন্তী নামের রহস্য ও পৌরাণিক মাহাত্ম্য

‘রটন্তী’ শব্দটির উৎপত্তি ‘রটনা’ থেকে। মনে করা হয়, এই দিনেই দেবীর মহিমা জগতজুড়ে প্রচারিত বা ‘রটিত’ হয়েছিল। এর পেছনে একাধিক পৌরাণিক কাহিনী রয়েছে:

  • ছিন্নমস্তার আবির্ভাব: লোককথা অনুযায়ী, এই তিথিতেই দেবী পার্বতী তাঁর সহচরীদের ক্ষুধা মেটাতে নিজের মস্তক ছিন্ন করে রক্তধারা পান করিয়েছিলেন, যা দেবী ছিন্নমস্তার রূপ হিসেবে পরিচিত।

  • রাধা-কৃষ্ণের লীলা: শাস্ত্র মতে, শ্রীকৃষ্ণের বাঁশির সুরে মগ্ন গোপিনীরা এদিনই বনের মধ্যে দেবী আদ্যাশক্তি কালীর দর্শন পেয়েছিলেন এবং শ্রীরাধিকার ঐশ্বরিক রূপ উপলব্ধি করেছিলেন।

❤️ দাম্পত্য সুখ ও প্রেমের বাধা কাটানোর মোক্ষম দিন

জ্যোতিষ ও ধর্মমতে, রটন্তী কালী পুজো শুধু আধ্যাত্মিক নয়, জাগতিক সমস্যার সমাধানেও ফলদায়ক। বিশেষ করে:

  • যাঁদের জীবনে প্রবল দাম্পত্য কলহ চলছে।

  • যাঁরা দীর্ঘ চেষ্টার পরেও দাম্পত্য সুখ পাচ্ছেন না।

  • যাদের সদ্য প্রেমের বিচ্ছেদ ঘটেছে বা সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে।

বিশ্বাস করা হয়, এই তিথিতে ভক্তিভরে মায়ের কাছে প্রার্থনা করলে সম্পর্কের তিক্ততা দূর হয় এবং জীবনে হারানো সুখ ফিরে আসে।