নিষ্ঠুর সমাজ! ১০ বছরের শিশুর কাঁধে মায়ের লাশ, এইডসে সর্বস্ব হারানো অনাথের কান্নায় ভিজল হাসপাতাল

উত্তরপ্রদেশের এটা (Etah) জেলায় ১০ বছরের এক বালকের অসহায়ত্ব ও সাহসের এমন এক ছবি সামনে এসেছে, যা আধুনিক সভ্য সমাজকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর যক্ষ্মা ও এইচআইভি-তে আক্রান্ত মায়ের মৃত্যু হয়েছে জেলা হাসপাতালে। কিন্তু মর্মান্তিক বিষয় হলো, মৃত্যুর পর সেই নিথর দেহের পাশে বসে থাকার জন্য কোনো আত্মীয় বা প্রতিবেশী এগিয়ে আসেনি। একা হাতেই মায়ের মৃতদেহ আগলে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করল ১০ বছরের অনাথ শিশুটি।
গত বছরই এইডসে প্রাণ হারিয়েছেন শিশুটির বাবা। তারপর থেকেই একঘরে করে দেওয়া হয়েছিল পরিবারটিকে। স্কুল ছেড়ে অসুস্থ মায়ের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিল এই খুদে। বুধবার রাতে মায়ের মৃত্যুর পর যখন কেউ আসেনি, তখন হাসপাতালের এক কর্মীর সাহায্যে নিজেই স্ট্রেচার ঠেলে মায়ের দেহ মর্গে নিয়ে যায় সে। পুলিশ এসে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশুটি জানায়, “বাবার মৃত্যুর পর আত্মীয়রা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। কাকাও আমাদের খবর রাখেনি।”
৬০ কিলোমিটার দূরে থাকা কাকা যখন খবর পেয়ে পৌঁছান, ততক্ষণে ময়নাতদন্তের জন্য একাই দাঁড়িয়ে লড়াই চালিয়েছে এই খুদে যোদ্ধা। প্রশাসন এখন খতিয়ে দেখছে, ওই মহিলা সরকারি সমস্ত চিকিৎসা পরিষেবা পেয়েছিলেন কি না। তবে এই ঘটনা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—মানুষ কি এতটাই অমানবিক যে একটি শিশুর আর্তনাদও কানে পৌঁছাল না?