কুকুর কামড়ালে দিতে হবে বিপুল জরিমানা! রাজ্য সরকার ও কুকুরপ্রেমীদের কড়া হুঁশিয়ারি সুপ্রিম কোর্টের

পথকুকুর নিয়ে এবার বেনজিরভাবে কড়া অবস্থান নিল দেশের শীর্ষ আদালত। মঙ্গলবার এক শুনানিতে বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহেতা ও এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পথকুকুরের কামড়ে কারও ক্ষতি বা মৃত্যু হলে তার পূর্ণ দায় নিতে হবে কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারকে। এমনকি দিতে হতে পারে বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ বা জরিমানা।
কুকুরপ্রেমীদেরও কাঠগড়ায় দাঁড় করালো আদালত
এদিন নিশানায় ছিলেন শুধুমাত্র সরকার নয়, তথাকথিত পথকুকুরপ্রেমীরাও। আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী বিষয়টিকে ‘আবেগজনিত’ বলে উল্লেখ করলে আদালত পালটা ভর্ৎসনা করে জানায়:
-
দায়বদ্ধতা: যাঁরা রাস্তায় কুকুরকে খাওয়ান, তাঁরাও দায় এড়াতে পারেন না।
-
পরামর্শ: কুকুরদের ভালোবাসলে রাস্তায় খাবার না দিয়ে বাড়িতে বা নিজেদের কাছে রাখুন।
-
অধিকার: রাস্তায় ঘুরে কুকুর নোংরা করবে, মানুষকে তাড়া করবে বা কামড়াবে— এই অধিকার কারও নেই। কুকুরে কামড়ানোর শারীরিক ও মানসিক ক্ষত সারাজীবন থেকে যায়।
হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কুকুর সরানোর নির্দেশ
আদালত আগে দেওয়া তাঁর নির্দেশের কথা মনে করিয়ে দিয়ে জানিয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাস স্ট্যান্ড, স্পোর্টস কমপ্লেক্স এবং রেলওয়ে স্টেশনের মতো জনবহুল চত্বরে কোনওভাবেই কুকুরকে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।
জীবাণুমুক্তকরণ ও আশ্রয়কেন্দ্র নিয়ে কড়াকড়ি
আদালতের মতে: ১. আশ্রয়কেন্দ্র: বেওয়ারিশ কুকুরদের আবাসিক এলাকা থেকে দূরে নির্দিষ্ট আশ্রয়কেন্দ্রে সরাতে হবে। ২. নিরাপত্তা: সেখানে পেশাদার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী থাকতে হবে যাতে কুকুররা কোনওভাবে বাইরে বেরিয়ে আসতে না পারে। ৩. ব্যতিক্রম: যে সব কুকুর আক্রমণাত্মক বা জলাতঙ্কে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, সেগুলোকে টিকাকরণ বা নির্বীজকরণের পর আবার লোকালয়ে ছাড়া যাবে না।
সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া অবস্থানে একাধারে যেমন সাধারণ মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন, অন্যদিকে কুকুরপ্রেমীদের মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। দেশজুড়ে জলাতঙ্ক ও কুকুরের কামড় যেভাবে বাড়ছে, তাতে রাজ্যগুলো এই বিপুল জরিমানার হাত থেকে বাঁচতে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।