“নিপা ভাইরাস রুখতে বেলেঘাটা ID-তে বড় ব্যবস্থা”-দেখেনিন সরকারি হেল্পলাইন নম্বরও

রাজ্যে থাবা বসিয়েছে মারণ ভাইরাস ‘নিপা’। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই নার্সের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। হাসপাতাল সূত্রে খবর, দু’জনকেই ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কাটোয়ার বাসিন্দা এক নার্সের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। অন্যজন নদিয়ার বাসিন্দা। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত বুলেটিন প্রকাশ করা হয়নি, তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসন।

মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সংক্রমণ রুখতে বিশেষ প্রোটোকল তৈরি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক। নজরদারি জোরদার করা, নমুনা সংগ্রহ এবং পর্যাপ্ত বেড প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলকাতার নাইসেড (NICED) এবং স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে নমুনা পরীক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আক্রান্ত দুই নার্স ঠিক কীভাবে সংক্রামিত হলেন এবং তাঁরা কাদের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তা জানতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে ‘কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং’। ইতিমধ্যে তাঁদের সংস্পর্শে আসা ১৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করে এইমসে (AIIMS) পাঠানো হয়েছে। কাটোয়া ও বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একাধিক কর্মীর নমুনাও পরীক্ষা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের সহায়তায় রাজ্য সরকার দুটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে: ০৩৩-২৩৩৩-০১৮০ এবং ৯৮৭৪৭০৮৮৫৮

পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিল্লি থেকে ৫ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল রাজ্যে পাঠানো হচ্ছে। এই দলে কল্যাণী ও ভুবনেশ্বর এইমসের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রয়েছেন। জাতীয় স্তরের একটি ‘জয়েন্ট আউটব্রেক রেসপন্স টিম’ সংক্রমণের উৎস চিহ্নিত করতে কাজ শুরু করেছে। সরকারি ও বেসরকারি—উভয় হাসপাতালের জন্যই বিশেষ স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।